যৌথসভায় কাদের

নির্বাচন ডিসেম্বরে বিএনপির সঙ্গে চাই প্রতিযোগিতা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৪১ এএম

দ্বাদশ সংসদের নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরে হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। পাশাপাশি ‘গুজব’ মোকাবিলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমরা সংঘাত চাই না, প্রতিযোগিতা চাই।’

গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের এই যৌথসভা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্রকে ঘরে জিম্মি করে রেখেছে। যারা ঘরে গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রাখে, তারা দেশে কীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে? আমরা বিএনপির সঙ্গে শুরু থেকেই কম্পিটিশন (প্রতিযোগিতা) চেয়েছি, কনফ্রন্টেশন (সংঘাত) চাইনি। তাই, নির্বাচন ছাড়া কোনোভাবেই সরকার পরিবর্তন করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপিকে প্রথম থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখি। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক চেয়েছি। তাদের জন্ম থেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যা, একুশে আগস্টের ঘটনা, ২০০১ সাল, সবকিছুতেই তারা আমাদের বরাবরই মনে করে আসছে শত্রুপক্ষ। শত্রুপক্ষ হিসেবে তারা আমাদের সঙ্গে শত্রুতাই করে গেছে। এই শত্রুতার অপরিহার্য সঙ্গ ষড়যন্ত্র।’

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা এক বছর ধরে প্রকাশ্যে মাঠে আসছে, বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে, তারা অনেক বড় বড় কথা বলেছে। আমরা সন্ত্রাসের আশঙ্কায় শান্তি সমাবেশ করছি। যতক্ষণ বিএনপি আন্দোলন করবে, আমরা শান্তি সমাবেশ করব। তারা নয়াপল্টনে করে, আমরা উত্তরা, ১০ ডিসেম্বর তারা রাজধানীতে করেছে, আমরা সাভারে করেছি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন এলেই দেখা যায় নানা ধরনের গুজবের ডালপালা বিস্তার করে। আজকে আমরা সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনের দিকে অভিযাত্রা শুরু করেছি। আমাদের দল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, আজকে আমরা কোনো কর্মসূচি দিলেই কিছু সংবাদমাধ্যম বিএনপির বক্তব্যের প্রতিধ্বনি তোলে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি বলছে পাল্টাপাল্টি, আমরা তো পাল্টাপাল্টি সভা, সমাবেশ করছি না। তারা করছে আন্দোলনের পদযাত্রা, আন্দোলনের সমাবেশ। আমরা যেটা করছি, সেটা হচ্ছে শান্তির সমাবেশ। বিএনপির সঙ্গে আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা আছে, তা সুখকর নয়। ২০১৩, ১৪ সালে রাজনীতিতে তারা কত নিকৃষ্টতম  নোংরা ভূমিকা পালন করেছে, সেটার প্রমাণ দেশের মানুষ পেয়েছে। নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। আমাদের স্মৃতিটা এখনো জাগে, দেশের জনগণ এত তাড়াতাড়ি সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলবে না।’

যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া,  কামরুল ইসলাম ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত