অগ্নিদগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:০০ পিএম

নরসিংদীতে শ্বশুর বাড়ির আগুনে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিশা সাহা (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সাতদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরের পশ্চিমকান্দা পাড়ার সেবাসংঘ এলাকায় তিশা তার শ্বশুর বাড়িতে আগুনে দগ্ধ হন। পরে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতাল নেয়া হলে সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত তিশা পশ্চিমকান্দা পাড়ার সেবাসংঘ এলাকার কাজল সাহার স্ত্রী। প্রায় দুই বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে তিশা ও কাজল সাহার বিয়ে হয়।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত তিশা ও তার শাশুড়ি মায়া রানী সাহার মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকতো। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কাজল সাহার বাড়িতে চিৎকার শুনতে পায় প্রতিবেশীরা। কিন্তু গেইট বন্ধ থাকায় কেউ বাড়ির ভেতরে যেতে পারেনি। প্রায় ২ ঘণ্টা পর বাড়ির সদস্যরা বের হয়ে প্রতিবেশীদের জানায় তিশা রান্না ঘরে কাজ করতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হয়েছে। পরে স্বামী কাজল সাহাসহ বাড়ির অন্যান্যরা তিশাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় তিশার শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে ঝলসে যাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে সেখানে সাতদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সকালে তিনি মারা যায়। আগুনে তিশার শরীরের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করে তিশাকে হত্যা করেছে। নিহতের বোন পূজা সাহা বলেন, তিশার শাশুড়ি তাকে দীর্ঘদিন অত্যাচার করে আসছে। অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া অবস্থায় তাকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখেছে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

নরসিংদী সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। এঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত