ক্ষমতায় থাকাকালে উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসে মুহিকাকে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট বলা হতো। বলা হবেই বা না কেন? প্রেসিডেন্টদের যে পরিমাণ অর্থবিত্ত থাকে সেসবের কিছুই ছিল না তার। ব্যতিক্রমী এই প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
উরুগুয়ের রাষ্ট্রপ্রধান
খামারবাড়ির বাইরে টাঙানো রশিতে জামা-কাপড় শুকোচ্ছে। উঠানের একদিকে একটি কুয়া বহুদিন ধরে আছে। সেখান থেকে পানি তুলে রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়াসহ যাবতীয় কাজকর্মে ব্যবহার করা হয়। ছোট্ট উঠানটি আগাছাভর্তি। অনেকদিন সেগুলোতে কেউ হাত না দেওয়ায় ইচ্ছেমতো বড় হওয়ার স্বাধীনতা উপভোগ করছে আগাছাগুলো। বাড়ির বাইরে পুলিশের দুজন কর্মকর্তা সর্বক্ষণই থাকেন। আর থাকে একটি তিনপেয়ে কুকুর, যার নাম ম্যানুয়েলা। এটিই উরুগুয়ের একসময়ের প্রেসিডেন্ট হোসে মুহিকার বাসস্থান। তার জীবনযাপন যে বিশ্বের সাবেক প্রেসিডেন্টদের থেকে একেবারে আলাদা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দামি বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে আরাম-আয়াসে জীবনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দিতে যে মুহিকা পারতেন না, তা নয়; কিন্তু তিনি তা করেননি। প্রাচুর্যের মধ্যে না থেকে রাজধানী মোন্তেভিদেও থেকে দূরে স্ত্রীর খামারবাড়িতে থাকছেন তিনি। স্ত্রীকে নিয়ে ফুলের চাষ করেন মুহিকা। প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষের পর কেন এমন জীবনধারা বেছে নিয়েছেন মুহিকা। আসলে মুহিকা যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন থেকেই ওই বাড়িতে থাকছেন তিনি, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তার থাকা হয়নি।
হোসে মুহিকা উরুগুয়ের ৪০তম প্রেসিডেন্ট। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল এই পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে তার জীবনধারা কেবল দেশের নয়, দেশের বাইরের মানুষকে বিস্মিত করে। তিনিই ছিলেন সে সময় বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতায় থাকাকালে উরুগুয়ে রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১২ হাজার ডলার করে বেতন পেতেন মুহিকা। বেতনের ৯০ শতাংশই দরিদ্র মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দান করে দিতেন তিনি। জমানোর মতো অর্থ তার হাতে থাকত না আর। এছাড়া বিলাসবহুল জীবনযাপন তাকে কখনোই টানেনি। এসব কারণে উরুগুয়ে রাষ্ট্রের দেওয়া প্রেসিডেন্ট ভবনে না থেকে রাজধানী শহরের বাইরে খুব সাধারণ এক খামারবাড়িতে থাকতে শুরু করেন তিনি এবং এখনো সেখানেই আছেন। মুহিকার সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে মান্ধাতার আমলের একটি ফক্সওয়াগন। সেটি চালিয়ে তিনি দূর-দূরান্তে যান। আর আশপাশে যেতে তিনি ব্যবহার করেন তার ৬০ বছরের পুরনো একটি সাইকেল। বাগানে পুরনো এক চেয়ারে বসে মুহিকা বলেন, ‘জীবনের বেশির ভাগ সময় এভাবেই কাটিয়েছি আমি। যা আছে, তাই দিয়ে সুখে থাকতে জানি।’
উরুগুয়েতে প্রতি বছর সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক। ২০১০ সালে হোসে মুহিকার সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, তার কাছে মাত্র ১ হাজার ৮০০ ডলার আছে। ওই দামেই ১৯৮৭ সালে ভক্সওয়াগনটি কিনেছিলেন তিনি। ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে স্ত্রীর সম্পদের অর্ধেকসহ (স্ত্রীর মালিকানাধীন জমি, ট্রাক্টর ও একটি বাড়ি) নিজের সম্পদের বিবরণী জমা দেন মুহিকা। এর পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ডলার। ওই সম্পদ ছিল উরুগুয়ের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট দানিলো এসতোরির ঘোষিত সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ এবং মুহিকার পূর্বসূরি সাবেক প্রেসিডেন্ট তাবারে ভাসকেজের ঘোষিত সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ। মুহিকা একবার বলেছিলেন, ‘আমাকে বিশ্বের দরিদ্রতম প্রেসিডেন্ট বলা হলেও আমি নিজেকে দরিদ্র মনে করি না। দরিদ্র তারাই যারা ব্যয়বহুল জীবনযাপনের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উদয়াস্ত খাটেন। তাদের চাওয়ার কোনো শেষ নেই। কঠোর পরিশ্রম করে একবার যদি কেউ বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন, তাহলে তাকে এই জীবনধারা বজায় রাখার জন্য সারাটা জীবন দাসের মতো খেটে যেতে হয়। এর থেকে মুক্তি নেই। আর কেউ যদি মনে করেন, অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকা যায়, তাহলে তাকে আর অর্থের পেছনে ছুটতে হয় না। নিজের জন্য তখন তার অনেক সময় থাকে। সে সময়ই স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া যায়। অনেকে মনে করতে পারেন, আমি পাগলাটে বুড়ো মানুষদের মতো কথা বলছি। হতে পারে। তবে আমি জীবনকে এভাবেই দেখি।’
টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে ২০১২ সালের জুনে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে পুঁজিবাদের কট্টর সমালোচক ও উরুগুয়ের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুহিকা বলেন, ‘গোটা দুপুর আমরা টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলাপ করেছি। এর মাধ্যমে কীভাবে জনগণকে দারিদ্র্য থেকে বের করা যায়, সে নিয়েও কথা হয়েছে। আমরা কি আসলেই এসব নিয়ে ভাবছি? আমরা কি উন্নয়নের মডেল চাই? ধনী দেশগুলো কি এভাবেই তাদের ভোগবাদী সংস্কৃতিচর্চা করে যাবে? রাস্তাঘাটে এত গাড়ি থাকলে কী হবে এই পৃথিবীর? কী পরিমাণ অক্সিজেন সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট থাকবে? এই পৃথিবী নামক গ্রহের কি এত সম্পদ আছে যে সাত বা আট বিলিয়ন মানুষ তা অনায়াসে ভোগ করতে পারবে? ধনী দেশগুলোর অতিমাত্রায় ভোগের কারণে বর্জ্য সৃষ্টিও হয় বেশি। তাদের এই ভোগবাদিতা পৃথিবীর ক্ষতি বৈ উপকার করছে না।’
শৈশব ও গেরিলা জীবন
১৯৩৫ সালের ২০ মে মোন্তেভিদেও শহরে জন্মগ্রহণ করেন মুহিকা। তার বাবা দিমেত্রিয়ো মুহিকা ছিলেন ক্ষুদ্র চাষি। মুহিকার বয়স যখন পাঁচ, সে সময় তার বাবা দেউলিয়া হয়ে যান। ছোটবেলা থেকে অর্থকষ্টের মধ্য দিয়ে বড় হন তিনি। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কিউবা বিপ্লবে অনুপ্রাণিত হয়ে উরুগুয়ের একদল শহুরে তরুণ তুপামারো নামে এক গেরিলা দল গঠন করে। কোন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুপামারো গঠিত হয়েছিল, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। ঊনবিংশ শতাব্দীর পুরো সময়জুড়ে লাতিন আমেরিকার অন্যতম উদীয়মান দেশ ছিল উরুগুয়ে। ওই শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন হোসে পাবলো তোরকুয়াতো। তিনি উরুগুয়ের জনগণের জীবনযাত্রার মান এত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যে ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে অনায়াসে দেশটির তুলনা করা যেত। এর অন্যতম প্রধান কারণ তোরকুয়াতোর জটিল সমাজকল্যাণ ব্যবস্থা প্রবর্তন। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি করে ব্যাপক মুনাফা করে দেশটি। সে সময় উরুগুয়েকে ‘দুই আমেরিকার সুইজারল্যান্ড’ বলা হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ ও এশিয়ায় খাদ্যের দাম কমে যায়। ফলে উরুগুয়ে থেকে মহাদেশগুলোতে খাদ্যপণ্য রপ্তানি হ্রাস পায়। এর প্রভাব পড়ে দেশটির বিভিন্ন খাতে। শ্রমিকদের মজুরি কমে যায়, সেবা খাতে ভর্তুকি হ্রাস পায় এবং জনগণের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। ওই সময়ই উরুগুয়ের ছাত্র ও পেশাজীবীরা মিলে তুপামারো গঠন করেন। তারা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শ্রমিক সংগঠনের সদস্য ও গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন। মার্কসবাদী-লেনিনবাদী আদর্শের তুপামারোর সদস্য ছিলেন মুহিকা। ১৯৬৯ সালে রাজধানী মোন্তেভিদেওর কাছে ছোট শহর পানদো দখল করে তুপামারোর ছয় সদস্যের একটি দল। সেই ছয়জনের মধ্যে মুহিকাও ছিলেন। পরের বছর ১৯৭০ সালে মোন্তেভিদেওর এক পানশালায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি বাধা দেন। একপর্যায়ে তার গায়ে গুলি লাগে। তিনি দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আঘাত করলে তাকে ছয়বার গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ মুহিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে এক চিকিৎসক তার প্রাণ বাঁচান। পরে তুপামারোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই চিকিৎসক তাদের গেরিলা দলের গোপন সদস্য ছিলেন। এ কারণে সেবার তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন নয়তো বাঁচতেন না। ওই সময় উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন হোর্হে পাচেকো আরেকো। তার নির্দেশে চারবার গ্রেপ্তার হন মুহিকা। সত্তরের দশকের শুরুতে তুপামারোর শতাধিক যোদ্ধা কারাবন্দি ছিলেন। এদের মধ্যে মুহিকাসহ একশোর বেশি গেরিলা যোদ্ধা ১৯৭১ সালে পুন্তা কারেতাস কারাগারে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালিয়ে যান। পালানোর এক মাসের কম সময়ের মধ্যে মুহিকা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পরের বছর ১৯৭২ সালের এপ্রিলে আবার তিনি একই কারাগার থেকে পালাতে সক্ষম হন। ওইবারও তার সঙ্গে তুপামারোর ডজনখানেক সদস্য ছিলেন। সেবার তাদের পালাবার পরিকল্পনা বেশ অভিনব ছিল। প্রথমবার তুপামারোর সদস্যরা পুন্তা কারেতাস কারাগারের ভেতর থেকে সুড়ঙ্গ খনন করেন যার মুখ ছিল জেলখানার পার্শ্ববর্তী এক বাড়ির বৈঠকখানা। পরের বার কারাগারটির বাইরে থেকে সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়। সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে চাকা লাগানো কাঠের তক্তা দিয়ে জেলখানা থেকে বের হয়ে যান মুহিকাসহ বাকিরা। অবশ্য কয়েকদিন পর তিনি ফের ধরা পড়েন। ওই ঘটনার মাসকয়েক পর ১৯৭৩ সালে উরুগুয়েতে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। অভ্যুত্থানের পর অন্য বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হলেও মুহিকাসহ তুপামারোর নয় সদস্যকে সামরিক হেফাজতে রাখা হয়। সেখানে তারা অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে বন্দি ছিলেন। উরুগুয়ের সামরিক বাহিনী মুহিকাকে এক, দুই বছর নয়, টানা ১৩ বছর আটকে রেখেছিল। ওই সময় মানসিক সমস্যাসহ আরও নানা অসুখে আক্রান্ত হন তিনি। সেনাবাহিনী তাকে যে কক্ষে রেখেছিল, সেখানে তিনি ছাড়াও তুপামারোর আরও দুই সদস্য থাকতেন। এরা হলেন এলিউতেরিও ফারনান্দেজ উইদোব্রো ও মাউরিসিও রোসেনকফ। কক্ষে ওই দুই সদস্য নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করলেও সেসব আলাপে মুহিকা থাকতেন না কারণ মানসিক সমস্যার কারণে বেশির ভাগ সময় চুপচাপ থাকতেন তিনি।
ক্ষমতায় মুহিকা
১৯৮৫ সালে উরুগুয়েতে গণতন্ত্র ফিরে আসে। সাধারণ ক্ষমা আইনে মুক্তি পান মুহিকা। কেবল তিনি একা নন, ১৯৬২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দেশটিতে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার ঘটনায় অভিযুক্ত সবাই সাধারণ ক্ষমার আওতায় আসেন। চার বছর পর ১৯৮৯ সালে উরুগুয়ের বামপন্থিরা রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম মুভমেন্ট অব পপুলার পার্টিসিপেশন (এমপিপি)। এতে যোগ দেন মুহিকাসহ তুপামারোর অনেকে। এটি দেশটির বামপন্থি জোট ব্রড ফ্রন্টের অংশ ছিল। ১৯৯৯ সালে উরুগুয়ের নির্বাচনে সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন মুহিকা। ওই সময় মুভমেন্ট অব পপুলার পার্টিসিপেশন বা এমপিপির জনপ্রিয়তা অনেক বৃদ্ধি পায়, তাদের ভোটও বাড়ে এবং এতে মুহিকার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ২০০৪ সালের মধ্যে এমপিপি উরুগুয়ের রাজনৈতিক জোট ব্রড ফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়। ওই বছরের নির্বাচনে মুহিকা ফের উরুগুয়ের সিনেটে নির্বাচিত হন এবং তিন লাখের বেশি ভোট পায় এমপিপি। ২০০৫ সালে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি নেতা তাবারে ভাসকেজ নির্বাচিত হওয়ার পেছনে এমপিপির নেতৃত্বাধীন ব্রড ফ্রন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। উরুগুয়ের পরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুহিকা জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন মুহিকা। এগুলোর মধ্যে গর্ভপাত বৈধকরণ, সমকামী বিয়ে বৈধকরণ উল্লেখযোগ্য। উরুগুয়েই বিশ্বের প্রথম দেশ যেখানে মানুষ বিনোদনের জন্য গাঁজা খেতে পারে। ২০১৩ সালে এই সংক্রান্ত আইন করেছিলেন মুহিকা।
আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতা
মুহিকা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সার্বিয়ার বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এমির কুস্তুরিৎসা তাকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে হাত দেন। ১ ঘণ্টা ১৪ মিনিট দৈর্ঘ্যরে ওই প্রামাণ্যচিত্রের নাম এল পেপে : এ সুপ্রিম লাইফ। ২০১৮ সালে এটি মুক্তি পায়। পরিচালক কুস্তুরিৎসা মুহিকাকে ‘রাজনীতির শেষ নায়ক’ হিসেবে দেখেন। এল পেপে : এ সুপ্রিম লাইফে মুহিকা গেরিলা যোদ্ধা থাকাকালে তার অভিজ্ঞতা, এক দশকের বেশি সময় দীর্ঘ কারাজীবন ও জীবনের শিক্ষা নিয়ে কথা বলেন। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ইতালীয় লেখক ফ্র্যাঙ্ক ইয়োডিচে মুহিকার জীবন নিয়ে ব্রেভে দিয়ালোগো সুলা ফেলিচিতা নামে বই লেখেন। বইটির ১০ হাজার কপি ছাপা হয়েছিল এবং সেগুলো স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
