আদানি গোষ্ঠীর মালিক গৌতম আদানির সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক নিয়ে দেশটির লোকসভায় দেওয়া রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে নোটিস জারি হয়েছে। রাহুলের বিরুদ্ধে অধিকার ভঙ্গের নোটিস দিয়েছেন ভারতের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি এবং বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর, অসংসদীয় অভিযোগ করেছেন রাহুল। এ ব্যাপারে তাকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে আদানি প্রসঙ্গে জবাবদিহি দাবি করেন রাহুল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, বিদেশ সফরে কতবার ওই শিল্পপতি তার সঙ্গী হয়েছেন, কতবার আলাদাভাবে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন? নির্বাচনী বন্ড মারফত আদানিরা বিজেপিকে কত টাকা দিয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরও দাবি করেন রাহুল। মরিসাসহ অন্য দেশের শেল কোম্পানি মারফত কত টাকা ভারতে ঢুকেছেÑ জানতে চান তা-ও। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ওই গোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ প্রকল্প পাইয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি প্রভাব খাটিয়েছিলেন বলেও রাহুল অভিযোগ করেন।
ইতিমধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সেই বক্তব্যের বড় অংশই স্পিকার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে অন্য বিরোধীদের বক্তব্যও এভাবেই বাদ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বিরোধীরা গতকাল সোমবারও সরব হন। রাজ্যসভার বিরোধী নেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এ বিষয়ে যে যে আপত্তি করেন, সেসবও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান এবং উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। বিরোধীরা তখন সেøাগান দিতে শুরু করেন। যুগ্ম সংসদীয় কমিটি গড়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, ‘এটা পরিষ্কার, বিরোধীরা সংসদের তোয়াক্কা করেন না। আলোচনাও চান না।’ বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সভা এক মাসের জন্য মুলতবি করে দেওয়া হয়। সোমবার ছিল সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের শেষ দিন। পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে ১৩ মার্চ।
এদিকে আদানি গোষ্ঠীর দশটি সংস্থার প্রতিটির শেয়ারমূল্য সোমবারও কমেছে। আদানি এন্টারপ্রাইজের শেয়ার পড়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেডের ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ; আদানি টোটাল গ্যাস, আদানি ট্রান্সমিশন ও আদানি উইলমার পড়েছে ৫ শতাংশ করে। আম্বুজা সিমেন্টের দর পড়েছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ। আদানি পাওয়ার ও আদানি গ্রিন এনার্জির দরপতন হয়েছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ করে। এসিসির দাম পড়েছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি পড়েছে এনডিটিভির দাম, ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ।
