মুক্তিযোদ্ধাকে কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে, নিন্দা

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৩২ এএম

নরসিংদীতে আবু ছালেক রিকাবদার (৭০) নামে এক বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা গ্রেপ্তারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে হাজির করা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গত শনিবার বিকেলে কোমরে দড়ি ও হাতে হ্যান্ডকাফ বেঁধে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শিবপুর থানা থেকে পাঠানোর পর নরসিংদীর আদালতে তোলা হয়। যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে তোলার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ নিয়ে জেলাজুড়ে সমালোচনা চলছে। যাদের মধ্যে রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আবু ছালেক রিকাবদার শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে বিনা পরোয়ানায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে আবু ছালেককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শনিবার বিকেলে পুলিশ তাকে গত বছরের নভেম্বর মাসের একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নরসিংদীর আদালতে পাঠায়। এ সময় তিনি আরও কয়েকজনের সঙ্গে কোমরে দড়িবাঁধা ও হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। ওইদিন আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘থানা থেকে আসামিদের নিরাপদে আদালতে তোলার জন্য হাতকড়া পরানোর বিধান রয়েছে। কিন্তু কোমরে দড়ি পরানোর কোনো বিধান আছে কি না তা আমার জানা নেই। আর মুক্তিযোদ্ধারা হলো জাতির বীরসন্তান। এ ব্যাপারে পুলিশ আরও সতর্ক হতে পারত।’

স্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, রাজনৈতিক মামলায় যে কেউ গ্রেপ্তার হতেই পারেন, কিন্তু আবু ছালেক রিকাবদার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, চোর-ডাকাত, কিংবা খুনিও নন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে কেন হাতে হাতকড়া পরানোর পরও কোমরে রশি বাঁধতে হবে?

শিবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুল মোতালিব খান বলেন, ‘আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এভাবে কোমরে রশি বেঁধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।’

শিবপুর থানার যুদ্ধাকালীন কমান্ডার প্রফেসর আবদুল মান্নান খান বলেন, ‘আবু ছালেক রিকাবদার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করে হাতে হাতকড়াসহ কোমরে রশি বেঁধে ন্যক্কারজনক কাজ করেছে। এতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। আমি এ ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহসীন নাজির বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেক রিকাবদার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ওনাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগ অবগত নয়। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে হাতকড়া পরানোর পরও কোমরে রশি বাঁধা হয়েছে, যা খুবই লজ্জার।’

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কোমরে রশি বাঁধার কারণ জানতে চাইলে শিবপুর মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, ‘রাজনৈতিক মামলায় আবু ছালেক রিকাবদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো  হয়েছে। তার কোমরে রশি বাঁধার বিষয়টি আমার জানা নেই, তার সঙ্গে যারা ছিল তারা বলতে পারবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত