গাজীপুরের শ্রীপুরে এক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামে সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট নিয়ে যায়। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে একই গ্রামের তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ডিআইজি আবদুল জলিলের বাবা, মাসহ কাজের লোকেরা থাকেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাবা আবদুল বাতেন বলেন, শনিবার রাতের খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১টার দিকে মুখে কালো মুখোশধারী সাত-আটজন ডাকাত মই ব্যবহার করে বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভেতর ঢুকে গেটের তালা ভেঙে রামদা ও ছুরি হাতে ঘরে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বাড়ির সব সদস্যকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। মুখোশ পরিহিত ডাকাতরা অন্তত ঘণ্টাব্যাপী লুটপাট চালায়। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার জন্য অতিরিক্ত ডিআইজির ইউনিফর্ম (টিউনিক) লুটে নেয় তারা।
প্রতিবেশীরা জানান, ডাকাতি শেষে ওই বাড়ির লোকজনের চিৎকারে তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা বাড়ির লোকজনকে বাঁধা অবস্থায় পান। পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন। তারা জানান, সপ্তাহ আগেই এ গ্রামের আলমগীরের বাড়িতে বড় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। এরও সপ্তাহ আগে আরও এক বাড়িতে ডাকাতি হয়েছিল। ১৫ দিনের ব্যবধানে ফের এক বাড়িতে ডাকাতি। গত দুই মাসে বিভিন্ন সড়কেও বেশ কিছু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এখনো সেসব ডাকাতির কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। লুণ্ঠিত মালামালও উদ্ধার হয়নি। পরপর ডাকাতির এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিন্টু মোল্ল্যা বলেন, ডাকাতরা পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল জলিলের বাড়ির পেছন দিকে কাঁটাতারের বেড়া মই দিয়ে টপকে ভেতরে ঢোকে। এরপর তারা আধপাকা টিনশেড বারান্দায় থাকা থাই গ্লাস খুলে আবদুল বাতেনের শোবার ঘরে ছুরি, শাবল ও রড নিয়ে প্রবেশ করে। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে সফলতা আসবে।
এদিকে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। তবে পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম জানান, ডাকাতির ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
