‘আমরা একটা বিকট শব্দ শুনতে পাই’ বলছিলেন ২৮ বছর বয়সী যাত্রী স্টারজিওস মিনেনিস। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় শহর লারিসায় দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে ওই মুহূর্তের অনুভূতি বর্ণনা করছিলেন স্টারজিওস।
তিনি বলেন, ‘ট্রেনের কামরার মধ্যে আমরা গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম। তারপর এটি গড়িয়ে একদিকে থামল। সৃষ্টি হলো আতঙ্কের। চারিদিকে তার, সঙ্গে আগুন। আমরা আগুনে পুড়ে যাচ্ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘১০-১৫ সেকেন্ড চরম বিশৃঙ্খলা চলেছে। একজন আরেকজনের ওপর গিয়ে পড়ছিল। ট্রেনের জানালা ভাঙা, লোকজন চিৎকার করছে।’
গ্রিসের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। এটি গ্রিসের ইতিহাসের ভয়ংকর দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, লারিসায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের এই ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৬৬ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনা কবলিত দু’টি ট্রেনের একটি ছিল মালবাহী ট্রেন, অপরটিতে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী ট্রেনটির বগিতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর কোস্টাস আগোরাস্টস। এই দুর্ঘটনার পর গ্রিসে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিটসোটাকিস দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
