বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভোট নিয়ে এখনো রাজনৈতিক ঐক্য দেখছেন না সিইসি

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৩, ০১:৫৯ এএম

নির্বাচন নিয়ে সংকটের কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেছেন, ‘আমরা একটা সংকটে আছি, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ ভোট নিয়ে আমরা এখনো রাজনৈতিক কোনো ঐক্য দেখতে পাচ্ছি না। এটা খুব প্রয়োজন। যদি ঐক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। আমরা চাই না, নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের সময় কোনো রাজনৈতিক সংকট তৈরি হোক।’ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন অডিটোরিয়ামে জাতীয় ভোটার দিবস-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিইসি।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখনো আস্থাভাজন হয়ে ওঠেনি এটা সম্পূর্ণ সত্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় আস্থার জায়গা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এটা সম্পূর্ণ সত্য না হলেও কিছুটা সত্য। ভোটারদের আস্থা বর্ধিত করতে হবে। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। নির্বাচন আয়োজক হিসেবে ভোটার এডুকেশন আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকার যে তথ্য সামনে আসছে তা মানতে নারাজ সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। তবে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। আবহাওয়াগত কারণে হতে পারে, দুর্যোগের কারণে হতে পারে, শীতের কারণে হতে পারে। বিভিন্ন কারণেই হতে পারে। কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ণ, ভোটাররা এসেছেন কি না, তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে কি না, তারা ভোট দিতে পেরেছেন কি না।’

সিইসি বলেন, ‘আমরা যেটা অনুমান করেছি ভোট যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়, ব্যাপকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়, তখন ভোটার উপস্থিতি বেশি থাকে। জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হয়েছে কারণ সেখানে সময় বাকি আছে মাত্র ১০ মাস। আর সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়নি।’

ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে কিন্তু উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল এবং ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) হয়েছে। ইভিএমে ভোটে বলা হয় ধীরগতি, সেখানেও উপস্থিতি যথেষ্ট ভালো ছিল। আগামীতে ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, সেখানে উপস্থিতি যথার্থ হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে সিইসি বলেন, ‘জেলা পরিষদে আমাদের উপস্থিতি ছিল ৯৯ শতাংশ, সেখানে ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে ভোট হয়েছে।’

রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি হয় তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর একটা দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘তাদের সে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা ভোটটা আয়োজন করব। আমরা আপনাদের ব্যালট পেপার সাপ্লাই করব, বক্স সাপ্লাই করব এবং আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক যে সংস্থাগুলো আছে আমরা তাদের স্ট্রিকলি বলে থাকি, আপনারা ভোটকেন্দ্রের চারপাশে প্রত্যাশিত আইনশৃঙ্খলা এবং অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। তাই দায়িত্বটি কার? দায়িত্বটি সামগ্রিক সমন্বয়ের। এটা আপনাদের অনুধাবন করতে হবে। এককভাবে এই দায়িত্ব কখনোই নির্বাচন কমিশনের নয়।’

আগামী ভোট ২০১৪ আর ২০১৮ সালের মতো হবে না, আপনারা কেন এত আশাবাদী একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘ওইসব প্রশ্নে আমি কোনো মন্তব্য করব না। ১৮ এবং ১৪ সালে কী হয়েছে সেগুলো আমরা দেখব না। আমরা সামনের দিকে এগোচ্ছি। আমাদের জন্য আপনাদের শুভকামনা রাখবেন, যেন আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বটা আগামীতে সুচারুরূপে পালন করতে পারি।’

দলগুলো কী ভোটের দিকে এগোচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা আগেও বলেছি, তাদের প্রতি আমরা বারবার আবেদন জানাচ্ছি আপনারা আসুন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। আপনাদের মধ্যে যদি মতপার্থক্য থাকে, সেটা আপনারা নিরসন করার চেষ্টা করুন। কারণ নির্বাচন কমিশন মুরুব্বিয়ানা করতে পারবে না। কিন্তু আমরা বিনীতভাবে সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা যেকোনো প্রকারেই হোক, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভারসাম্য সৃষ্টি করুন। যাতে এই ভারসাম্যের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে এক ধরনের নিরপেক্ষতা এবং যথার্থতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত