ময়মনসিংহের ভালুকায় অসাধু বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ও মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নে বন বিভাগের সরকারি জমি দেদার জবরদখল করা হচ্ছে। বনের জমিতে একের পর এক নির্মাণ করা হচ্ছে কারখানা, বসতবাড়ি, বহুতল ভবন ও মার্কেট। এ নিয়ে দখলকারীদের মামলার কারণে স্বয়ং বন কর্মকর্তারা বনের জমিতে যেতে পারছেন না বলে জানান।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের হবিরবাড়ি মৌজায় বনের গেজেটভুক্ত ১৯ নম্বর দাগে হামিদ গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় শতকোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি দখল করে সীমানাপ্রাচীর তুলে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। পাশেই একই দাগে হারুন নামে এক ব্যক্তি নির্মাণ করছেন বহুতল ভবন। ৭৭৮ দাগে মোবারক হোসেন ও জালাল, ১১০ দাগে চানুমিয়া, শহিদ, হারুন, জসিমসহ কয়েকজন নির্মাণ করছেন বসতবাড়ি ও মার্কেট। অপরদিকে মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের ধামশুর মৌজায় ১২১৭ দাগে আসাদুল নামে এক ব্যক্তি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর ভেকু ও ড্রামট্রাক দিয়ে বনের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, হবিরবাড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা রইছ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেই বনের জমিতে এসব নির্মাণকাজ চলছে। এলাকাবাসী আরও জানায়, বন বিভাগের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ না করে বনের জমিতে একটি ইট তোলাও সম্ভব না।
এ বিষয়ে হামিদ গ্রুপের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) নোমান আকন্দ বলেন, ‘বন বিভাগের সঙ্গে ঝামেলা রয়েছে। আমরা মামলায় ডিক্রি পেয়েই কাজ করছি।’
হবিরবাড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন বলেন, ‘৭৭৮ ও ১১০ দাগের জমি নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় দুই ব্যক্তি আমিসহ বন বিভাগের তিনজনের বিরুদ্ধে মারপিটের মামলা দিয়েছে। এলাকাবাসীর হামলার ভয়ে আমরা ওই সব দাগে যেতে পারছি না।’
ময়মনসিংহের সহকারী বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘হামিদ গ্রুপ ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদালতের একটি নিষেধাজ্ঞা এনে কাজ শুরু করে। আমরা আপিল করেছি। অন্যান্য দখলকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আমাদের লোকজন যে জড়িত না তা বলব না। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ১২১৭ দাগে আসাদুলের ভবন নির্মাণকাজ গত শনিবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাকে জমির কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।’
