দূতাবাসে ভিসা বাণিজ্য

সৌদির সাবেক ২ কর্মকর্তা ও ৮ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩, ০১:৫২ এএম

অবৈধভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিসা দেওয়ার অভিযোগে ঢাকার সৌদি দূতাবাসের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন কর্র্তৃপক্ষ (নাজাহা)। এ ছাড়া আরও ১১ জনকে এ অবৈধ ভিসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের মধ্যে আট বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানিয়েছে, ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের সাবেক ওই দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল ঘুষ নিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫৪ কোটি টাকার সমান। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ওই দুই কর্মকর্তা হলেন, ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগের সাবেক প্রধান ও উপরাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ফালাহ মুদাহি আল-শামারি এবং কনস্যুলার বিভাগের উপপ্রধান খালেদ নাসের আয়েদ আল-কাহতানি। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত তদন্তের ভিত্তিতে, রিয়াদ অঞ্চল পুলিশের আদালতের নিরাপত্তাবিষয়ক সার্জেন্ট মেতাব সাদ আল-ঘনউম, রিয়াদে বিশেষ মিশন বাহিনীর করপোরাল হাতেম মাস্তুর সাদ বিন তাইয়েব এবং ফিলিস্তিনি বিনিয়োগকারী সালেহ মোহাম্মদ সালেহ আল-শালাউতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া অবৈধ ভিসা বাণিজ্যের বিস্তারিত তদন্তের পর বাংলাদেশি নাগরিক আশরাফ উদ্দিন আকন্দ, আলমগীর হোসেন খান, শফিক আল ইসলাম শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ ভিসা বাণিজ্য ও সৌদি আরবের বাইরে অর্থ পাচারের দায়ে ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক মোহাম্মদ নাসের উদ্দিন নূর, জায়েদ উওসিদ মাফি, আবুল কালাম মোহাম্মদ রফিক আল ইসলাম, আজিজ আলহাক মুসলিম উদ্দিন ও আলামিন খান শহীদ আল্লাহ খানকেও গ্রেপ্তার করেছে সৌদি কর্র্তৃপক্ষ।

টুইটার পোস্টে নাজাহা জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বাংলাদেশে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অবৈধ ভিসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার রিয়াল পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও সোনা এবং বিলাসবহুল যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে; যা অবৈধ ওয়ার্ক ভিসা বিক্রির অর্থে কেনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত