নবম সপ্তাহেও উত্তপ্ত ইসরায়েল

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩, ১০:৪৫ পিএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছেই। উগ্র-ডানপন্থিদের নিয়ে ক্ষমতায় এসেই বিচারব্যবস্থা সংস্কারের পরিকল্পনা করে নেতানিয়াহু সরকার। সমালোচকরা বলছেন, নেতানিয়াহু সরকারের এ সংস্কার পরিকল্পনা ইসরায়েলের বিচারিক স্বাধীনতাকে পঙ্গু করবে, দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করবে, সংখ্যালঘুদের অধিকার নষ্ট করবে এবং ইসরায়েলের বিচার বিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করবে। তাই গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়ে রাজপথে নেমেছে লাখো ইসরায়েলি। ৯ সপ্তাহ ধরে তেল আবিবসহ বড় শহরগুলোর রাস্তায় বিক্ষোভ করছে নানা পর্যায়ের ইসরায়েলিরা।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ঠেকাতে ক্রমশ জোর বাড়াচ্ছে সরকার। গত রবিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শনিবার রাতে তেল আবিব এবং অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল। তবে পরে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা তেল আবিবে বাধা ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করছেন এবং রাস্তা অবরোধ করে আগুন জ্বালাচ্ছেন। অন্যদিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ব্যবহার করছে। ওই বিক্ষোভকালে রয়টার্সকে ওফির কুবিটস্কি (৬৮) নামের শিক্ষক বলেন, ‘ইসরায়েল একটি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা বিক্ষোভ চালিয়েই যাব।’ ডানপন্থি সরকারের ভাষ্যে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো বিক্ষোভকারীদের ‘বামপন্থি’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। যদিও বিচার বিভাগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে রাজপথের বিক্ষোভ গড়িয়েছে ইসরায়েলের সংসদ থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীতে। বিক্ষোভকারীরা হত্যাচেষ্টার মতো ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেছেন নেতানিয়াহুর জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। গতকাল সোমবার এক রেডিও চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে বিক্ষোভকারীরা হত্যাচেষ্টা করতে পারে। বামপন্থিদের মধ্যে থাকা নৈরাজ্যবাদী অনেক আগেই সীমালঙ্ঘন করেছে।’

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ বলছে, বেন-গভিরের এই মন্তব্যে দেশটির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে সমালোচনা। বেন গভিরকে ‘টিকটকের ভাঁড়’ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, “এই সকালে তিনি (বেন-গভির) নিজেই তথাকথিত হত্যাচেষ্টার ‘গোয়েন্দা তথ্য’ নিজে বানিয়েছেন।”

ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গানজ বলেন, ‘খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আমি নেতানিয়াহুর কাছে বেন-গভিরকে বহিষ্কারের আহ্বান জানাই। দেশপ্রেমিক বিক্ষোভকারীদের দাবিকে অস্বীকার করার মাধ্যমে আসলে তার মতো উগ্ররা বাস্তবতাকেই অস্বীকার করে যাচ্ছে।’

নেতানিয়াহু সরকারের বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করেছেন ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারাও। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ সমর্থনে আগামী বুধবারের একটি মহড়ায় অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সংশ্লিষ্ট ৩৭ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত