ভূমিকম্পের এক মাস

জীবিতরা খুঁজছে আশ্রয় স্বজনের দেহাবশেষ

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩, ১০:৪৬ পিএম

একের পর এক ভূমিকম্পে ভয়াবহ একটি মাস পার করল তুরস্ক-সিরিয়ার মানুষ। গত ৬ ফেব্রুয়ারি হওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের এক মাস পরও আশ্রয়হীন অনেক মানুষ। ঝুঁকি নিয়ে ধ্বংসাবশেষের পাশেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কারও আবার রাস্তাই যেন ঘরবাড়ি। জীবিতদের কয়েকজন ব্যস্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে, হারিয়ে যাওয়া স্বজনের দেহাবশেষের খোঁজে। স্বজন হারিয়ে, সর্বস্ব হারিয়ে এখন নিতান্তই নিঃস্ব অসংখ্য মানুষ। এই ভূমিকম্প দুই দেশের অন্তত সাড়ে তিন লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ভয়াবহতার চিহ্ন রেখে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে দুই লাখ স্থাপনা। এ পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে পঞ্চাশ হাজারের বেশি। নিখোঁজ আছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তুরস্কের প্রায় দেড় কোটি মানুষ। সিরিয়ায়ও হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি।

এক মাস পরও চলছে ধ্বংসস্তূপ সারানোর কাজ। সেখানে প্রতিদিনই মিলছে দেহাবশেষ। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত ১১ প্রদেশে লাখ লাখ টন কংক্রিটের এই স্তূপ সরাতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। এদিকে, যারা বেঁচে আছে, তাদের এখন টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে। চিকিৎসাসামগ্রীর স্বল্পতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব, কলেরার বিস্তারসহ নানামুখী সংকটে দুর্বিষহ দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্তদের।

তুরস্কের দুর্গত এলাকাগুলোর বেশির ভাগ ভবনই ছিল বেশ পুরনো। নতুনগুলোতেও মানা হয়নি সুরক্ষা বিধিমালা। এ ছাড়া ভোরে ভূমিকম্প হওয়ায় অধিকাংশ মানুষই বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। প্রাণ রক্ষার সুযোগটুকুও পায়নি তারা। বিশেষজ্ঞদের মত, এ কারণেই এত ক্ষয়ক্ষতি আর প্রাণহানি। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ভূমিকম্পে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে তুরস্কের। দেশটির অর্থনীতিতে দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি। দুর্গত এলাকাগুলো পুনর্গঠনেও খরচ হবে বিপুল অর্থ। এদিকে, ভূমিকম্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে তুর্কি সরকার। অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্নীতি আর দূরদর্শিতার অভাবে বাস্তবায়ন হয়নি ভবন সুরক্ষা নীতিমালা। যদিও ভবন নির্মাণে গাফিলতির কারণে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এরদোয়ানের প্রশাসন। এ ছাড়া উদ্ধার অভিযানে ধীরগতির অভিযোগও উঠেছে। সামনেই দেশটির নির্বাচন। ধারণা করা হচ্ছে, এরদোয়ানকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত