সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। আমদানির দায় মেটাতে এসব ব্যাংক বরাবরের মতোই ডলারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হাত পাতে। এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রেমিট্যান্সের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রবিবার রাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে এমন বার্তা দিয়েছেন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে ডেপুটি গভর্নরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, বৈঠকে রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যের এলসির দায় নিষ্পত্তি, ডলার ধারণ ও তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বলা হয়, সরকারের সার, জ¦ালানি ও খাদ্যের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি দায় মেটাতে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর হলে চলবে না। নিজেদের আয় বাড়াতে হবে। এ জন্য রেমিট্যান্সে গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দিয়েছেন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশে রেমিট্যান্স কর্মকর্তা নিয়োগ বা ব্যাংকের নিজস্ব প্রতিনিধি পাঠিয়ে প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করারও তাগিদ দেন তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত রেকর্ড ১০ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে। গত অর্থবছর বিক্রি করা হয় ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এর বেশিরভাগই দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে। এভাবে ডলার বিক্রির ফলে এরই মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। গত বছরের এ সময়ে রিজার্ভ ছিল ৪৬ বিলিয়ন ডলার। আর দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বলা হয়, প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। তা না করে এভাবে ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নামবে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
