পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত প্রাইভেসি আইন ও ফ্রিডম অব স্পিচ অ্যান্ড মিডিয়া নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন নিজেও কষ্টে আছেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি (ব্লিঙ্কেন) বলেছেন। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণে ভারতের সরকার যে আপত্তি বা বাধা দিয়ে আসছে তা তারা প্রত্যাহার করে নেবে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন উপলক্ষে ভারতে তার সফর নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত ১-৩ মার্চ ভারত সফর করেন মোমেন। ওই বৈঠকের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ ৯টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় র্যাবের ওপর দেশটির নিষেধাজ্ঞা তোলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান ড. মোমেন।
ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে বলেছেন, ‘আমার দেশে আমি অনেক কষ্টে আছি। আপনি তো অনেক ভালো আছেন। আমার দেশে প্রাইভেসি আইন, ফ্রিডম অব স্পিচ অ্যান্ড মিডিয়া এগুলোর জ্বালায় আমি বড় কষ্টে আছি। আপনার থেকে বেশি কষ্টে আমি আছি।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সুখকর বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা আমাদের অনেক গুরুত্ব দিয়েছে। আমাদের কিছু সমস্যা ছিল। ১৫০ গজের মধ্যে যেসব স্থাপনা নির্মাণ করার চেষ্টা করেছিলাম, ভারত এটাতে বারবার বাধা দেওয়ায় কাজ হচ্ছে না। যেমন ধরেন আমাদের রেললাইন। তারা (ভারত) এগুলোয় তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে। যার ফলে আমাদের কাজগুলো সুচারু হবে।’
তিনি আরও বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধায় আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবন, কসবা রেলওয়ে স্টেশন ও সালদা নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের ডিজেল পাঠাবে। এ লক্ষ্যে লাইনের কাজ হয়ে গেছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৮ মার্চ এটি উদ্বোধন করবেন। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দিয়ে ভারত থেকে সরাসরি পরিশোধিত তেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে আসবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ পাইপলাইনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। পরে ২০২০ সালের মার্চে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভারতের লুমানিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এলআরএল) এবং বাংলাদেশের মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন ও রাইসিনের ডায়ালগে যোগ দেওয়ার ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গটি তোলার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে জয়শঙ্করের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সীমান্ত হত্যার বিষয়টি এবারও তুলেছি। আমরা বলেছি অঙ্গীকারটা রাখেন। আমরা কেউ চাই না, তারাও চান না একটা লোক মারা যাক।’
তিনি বলেন, ‘দিল্লি সফরটা খুব ফলপ্রসূ হয়েছে। ভারতের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, যেগুলো ছোটখাটো সমস্যা আছে তা নিয়ে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমার পাশে বসেছিলেন এবং অনেকক্ষণ আলাপ করেছেন। আমাদের মতো দেশগুলোর সমস্যা, তাদের দেশের সমস্যা এগুলো নিয়ে আলাপ হয়েছে। এটি অত্যন্ত গঠনমূলক আলাপ। তাদের উপলব্ধি খারাপ নয়। কিন্তু তার পরও বিভিন্ন লোক নানা উসকানিমূলক আচরণ করে। কিন্তু আমার মনে হয়, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো বন্ধন তৈরি করতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে উন্নয়ন করেছি, সেটিতে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আরও সম্পৃক্ত হতে চায়। তারা বলেছেন, তাদের দেশেও লোক মারা যায়, পুলিশ মেরে ফেলে এবং তোমাদের দেশেও হয়। কিন্তু সেগুলো সরকার করে না এবং আমার দেশেও সরকার করে না। এগুলো নিয়ে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।’
ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হলে দেশে আসবেন, অসুবিধা কী? এটা নিয়ে চিন্তার কারণ নেই।
