মানিকগঞ্জ পৌরসভায় দিনে এক ঘণ্টাও গ্যাস পান না গ্রাহকরা। বাধ্য হয়ে নির্ভর করতে হয় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর। কিন্তু মাস শেষে তিতাস গ্যাসের নির্দিষ্ট বিল ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে। পৌরবাসীর এই ভোগান্তি এক দিন দুদিনের নয়, দীর্ঘ ১১ বছরের। ২০১২ সালের পর থেকে এই সংকট চলে আসছে। এর মাঝে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে অনেক আন্দোলন করেছেন তারা। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। উল্টো আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন অনেক গ্রাহক। পুলিশের মামলায় জেল-জুলমের শিকারও হয়েছেন অনেকে।
জানা যায়, মানিকগঞ্জে ২০১১ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস পেত গ্রাহকরা। কিন্তু পরের বছর থেকেই সংকট শুরু হয়। বর্তমানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ১ ঘণ্টাও পুরোদমে গ্যাস মেলে না। রান্নার কাজ সিলিন্ডার গ্যাস কিংবা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ২২ দশমিক ৬ এমএমসিএফডি। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ১১ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি। প্রতিদিন প্রায় অর্ধেক ঘাটতি থাকছে। জেলায় ১২ হাজার ১০২ জন আবাসিক গ্রাহক ১ হাজার ১৭০টি সিঙ্গেল চুলা ও ২২ হাজার ৯৬০টি ডাবল চুলা ব্যবহার করেন। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় প্রতি মাসে গ্রাহকরা ২ কোটি ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ টাকা বিল পরিশোধ করেন। বছরে এই টাকা দাঁড়ায় ৩১ কোটির ওপরে। সরবরাহ করা গ্যাসের বেশির ভাগই চলে যায় বিভিন্ন শিল্প কারখানা এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো। এতে আবাসিক গ্রাহকেরা কম গ্যাস পান।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দাশড়া এলাকার গৃহবধূ আয়শা বেগম অভিযোগ করেন, ‘সপ্তাহের কোনো একদিন অতিথির মতো আসে গ্যাস। তাও আবার অল্প কিছু সময়ের জন্য। বাড়তি খরচ করে সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে।’
সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী বীথি আক্তার চার বান্ধবী মিলে থাকেন একটি ফ্ল্যাট বাসায়। তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসের বাসাভাড়ার সঙ্গে বাড়িওয়ালা গ্যাসের বিল নিচ্ছেন। কিন্তু গ্যাস তো পাচ্ছি না।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ক্যাব) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু বলেন, ‘বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলায় প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা এই চার ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন এই নির্দেশনা মানছে না।’ ‘তিতাস গ্যাসের মানিকগঞ্জের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আতিকুল হক বলেন, ‘মানিকগঞ্জ গ্যাস লাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। যার কারণে লাইনে গ্যাসের চাপ কম। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন একটি লাইনের কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা হলে সংকট কেটে যাবে।’
মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র রমজান আলী বলেন, ‘গ্যাসের জন্য অনেক আন্দোলন হয়েছে। কোনো কাজ হয়নি। ২০১৪ সালে আন্দোলনে গিয়ে আমি নিজেও আহত হয়েছিলাম।’
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, ‘টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত একটি নতুন লাইনের কার্যক্রমের কথা আমাদের জানিয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে এটি। কাজ শেষ হলে গ্যাসের সমস্যা কেটে যাবে।’
