পুরো বিশ্ব জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বৈদ্যুতিক শক্তি কাজে লাগানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাটারি হয়ে উঠছে শক্তির আধার। আধুনিক সময়ে ব্যাটারির মূল উপাদান হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক খনিজসম্পদ লিথিয়াম। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক গাড়ি সব অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে লিথিয়াম দরকারি। তাই লিথিয়াম আহরণ বাড়ানোর জন্য বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। এ ক্ষেত্রে চীনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, স্মার্টফোনের অন্যতম প্রধান নির্মাতা চীনের অনেক বেশি লিথিয়াম প্রয়োজন।
লিথিয়াম আহরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক ও আর্থিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইউবিএস এজি গত সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ আহরণ অব্যাহত থাকলে এ দশকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে (২০২৫ সাল) বিশ্বে লিথিয়ামের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশের জায়গায় চলে আসবে চীন। এমনকি বিশ্বের তিন ভাগ লিথিয়ামের এক ভাগের নিয়ন্ত্রণ থাকবে পেইচিংয়ের হাতে। লিথিয়ামের এ বিশাল আহরণযজ্ঞের মাধ্যমে বিশ্বের লিথিয়ামের মোট চাহিদার ৩২ শতাংশ চীন একাই পূরণ করবে। ২০২২ সালে ব্যাটারি তৈরিতে অপরিহার্য হয়ে ওঠা এ খনিজের ২৪ শতাংশের জোগান দিয়েছিল শি চিনপিংয়ের দেশ। ২০২২ সালে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার টন লিথিয়াম উত্তোলন করে দেশটি। এমনকি আফ্রিকার লিথিয়াম খনিও আছে চীনের নিয়ন্ত্রণে। এগুলো থেকে চীন ২০২৫ সালের মধ্যে লিথিয়াম আহরণ ৭ লাখ ৫ হাজার টনে উন্নীত করবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার বিস্তৃত লবণ ক্ষেত্রে থাকা লিথিয়াম উত্তোলনেও মনোযোগী চীন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ধাতুটির মোট মজুদ রয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ টনের। কিন্তু প্রযুক্তিগত বাধা এবং অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে বলিভিয়ার পক্ষে সেখানে ধাতুটির উত্তোলন বেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সে কাজেই সহায়তা করবে চীন। আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও চিলির মধ্যে লবণে ঢাকা বিস্তৃত ভূমি বা স্যালারস রয়েছে, একে বলা হয় ‘লিথিয়াম ট্রায়াঙ্গল’। ধারণা করা হয়, বিশ্বের মোট লিথিয়াম মজুদের ৭৫ শতাংশেরও বেশি রয়েছে এখানে।
