স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাদিসের নির্দেশনা

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩, ১০:৫৬ পিএম

একজন প্রকৃত মুমিন কখনো স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীন থাকতে পারে না। কেননা শক্তিবান ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মুমিন আল্লাহতায়ালার কাছে বেশি প্রিয়। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুর্বল মুমিনের তুলনায় সবল মুমিন অধিক কল্যাণকর এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। আর যা তোমাকে উপকৃত করবে, সেটিই কামনা করো। সহিহ মুসলিম : ২৬৬৪

হাদিসের আলোকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার কয়েকটি দিক এ লেখায় আলোচনা করা হলো

দাঁতের যত্ন : সুস্থতার জন্য দাঁত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার রাখা, দাঁতের ময়লা ও দুর্গন্ধ দূর করতে সচেষ্ট থাকা জরুরি। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত দাঁতের যতœ নিতেন। দাঁত যতেœর প্রক্রিয়ায় গাছের শিকড়-জাতীয় মিসওয়াক ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একমাত্র মাধ্যম। তিনি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়মিত এই মিসওয়াকের আমল করতেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) রাত-দিনের যখনই ঘুম থেকে জাগ্রত হতেন অজুর আগে মিসওয়াক করে নিতেন। সুনানে আবু দাউদ : ৫৭

শরীরচর্চা কিংবা দ্রুত হাঁটা : সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরচর্চার বিকল্প নেই। যারা কর্মব্যস্ততায় শরীরচর্চার সুযোগ পান না, চিকিৎসকরা তাদের প্রতিদিন নিয়ম করে দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শরীরচর্চার অংশ হিসেবে নবীজি (সা.) সাহাবাদের সঙ্গে কুস্তি লড়েছেন। মাঝেমধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। প্রিয়তম স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গেও এক রাতে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি সব সময় স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে দ্রুত গতিতে হাঁটতেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, আমি নবীজি (সা.)-এর চেয়ে দ্রুতগতিতে কাউকে হাঁটতে দেখিনি। জামে তিরমিজি : ৩৬৪৮

পরিমিত খাবার ও পানি পান : সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের বিকল্প নেই। বর্তমান বিশ্বের ডায়েটিশিয়ানরা রোগীদের পরিমিত আহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। নবীজি (সা.) পরিমিত খাবারে অভ্যস্ত ছিলেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাবারের জন্য। এক ভাগ পানির জন্য। এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখা। জামে তিরমিজি : ২৩৮০

সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিচ্ছন্নতা : ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অনুষঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অংশ। সহিহ মুসলিম : ২২৩

তা ছাড়া অপরিচ্ছন্নতা ও নোংরা পরিবেশ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর কারণে নানা রোগজীবাণুর অনুপ্রবেশ ঘটে শরীরে। তাই অজু ও গোসলের পবিত্রতা অর্জনের পাশাপাশি শরীরের অবাঞ্ছিত কয়েকটি বিষয়ের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে। সহিহ বোখারি : ৫৮৮৯

দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ : সুস্থতা ও অসুস্থতা দুটোই মুমিনের জন্য নিয়ামত। তবে নেকির আশায় ইচ্ছাকৃত অসুস্থতা হওয়া যাবে না। নবী করিম (সা.) তার সাহাবিদের দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন এবং তিনি নিজে অসুস্থতার সময় চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার নিরাময়ের উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেননি। সহিহ বোখারি : ৫৬৭৮

পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম : ঘুম দৈহিক ও মানসিক প্রশান্তি আনে। মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটায়। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন রাতের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর ঘুম। চিকিৎসকরা দেরিতে ঘুমের অভ্যাসকে শরীরের জন্য নানান জটিল রোগের উৎস বলে থাকেন। হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার নামাজ এক-তৃতীয়াংশ রাত পরিমাণ দেরি করে পড়া পছন্দ করতেন, আর এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর না ঘুমিয়ে গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন। সহিহ বোখারি : ৫৯৯

একজন মুমিনকে যেমনিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদতের প্রতি তৎপর থাকতে হবে, তেমনিভাবে যথাযথ ও তৃপ্তিকর ইবাদতের জন্য সুস্বাস্থ্যের ব্যাপারেও যতœশীল হতে হবে। আল্লাহ আমাদের তওফিক দান করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত