পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আইভী

কাজ করলে কর আর না করলে নাই

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৩, ০৯:৩৭ এএম

বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ চেষ্টা করেও তাদের এ কর্মসূচি বন্ধ করতে না পারলে বিকেল ৪টার দিকে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিচে নেমে আসতে বাধ্য হন।

এসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্দেশে আইভী বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কাউন্সিলরদের সচিব ও অন্যান্য স্টাফদেরও বেতন আরও ৩ মাস আগে বেড়েছে। কিন্তু বৃদ্ধি হওয়া এ টাকা আমরা কাউকেই দিতে পারি নাই, কেননা আমাদের কাছে টাকা নেই। তোমাদের বেতন ৮ হাজার টাকা আর ফ্ল্যাটে থাকার জন্য ৫ হাজার টাকা দেয়া হবে এবং ফ্ল্যাটে থাকলে এই ৫ হাজার টাকা কেটে নেয়া হবে। কাজ করলে কর আর না করলে নাই। আমি চললাম।

এদিকে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। তারা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে দৃশ্য ধারণ করতে গেলে ক্ষেপে যান মেয়র আইভী।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভাত খাইতে ভাত পায় না, এতো দামি মোবাইল কোথা থেকে আসে। মোবাইল বন্ধ করো। তোমরা এসব কি করছো, মনে হয় এখানে কি যেন হয়ে গেছে। তোমাদের কারণেই ওদের এতো বাড় বেড়েছে। তোমরাই ঝামেলা বাড়াচ্ছো! ফাইজলামি করো মিয়া। মেয়রের এমন আচরণে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা।

এর আগে, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আর নয় হেলা ফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা’ এ ধরনের নানা স্লোগান দিতে থাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। বিক্ষোভ করতে করতে নগর ভবনের গেইটের সামনে বসে পড়ে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নগর ভবনের ভিতরে থাকা কোনো গাড়ি বাইরে যেতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয় তারা।

দুপুর দেড়টায় সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলর তাদের মেইন গেইট থেকে চলে যেতে বলে। তখন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে এবং অবস্থা বেগতিক দেখে নগরভবন ত্যাগ করে ওই কাউন্সিলর। ২টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। এসময় তারা জানিয়ে দেয়, নগরমাতা তথা মেয়র আইভী ছাড়া অন্য কারো সাথে কোনো কথা বলবে না তারা।

এর কিছুক্ষণ পরই বিভিন্ন ড্রামে করে ময়লা এনে নগরভবনের সামনে ফেলে দেয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। ময়লা ফেলে আবারও বিক্ষোভ শুরু করে তারা।

পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ৫ জন পুলিশ সদস্য এসে তাদের তুলে দেয়ার চেষ্টা করে কিন্তু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে পিছু হঠে পুলিশ। পরে পুলিশের আরও বেশ কয়েকজন সাব ইন্সপেক্টর আসেন এবং তারাও ব্যর্থ হন। সর্বশেষ দুপুর ৩টার দিকে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান এসে তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন।

এসময় ওসি বলেন, এসপি আমাকে বলেছে আপনাদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে তাকে জানাতে। স্যারকে জানালে তিনি আপনাদের নিয়ে মেয়রের সাথে কথা বলবে কিন্তু আপনারা এখন নগরভবন ছেড়ে দেন।

ওসির এমন বক্তব্যে প্রেক্ষিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নেতা শিমুল বলেন, আমরা আপনাকে সম্মান করি, আমরা পুলিশ সুপার স্যারকে স্যালুট জানাই। কিন্তু পুলিশ সুপার স্যার আমাদের বেতন বাড়ানোর মালিক নয়, বেতন বাড়ানোর মালিক নগরমাতা আইভী। তাই আমরা অন্য কারো কথা শুনতে চাই না, নগরমাতা আইভী আমাদের অভিভাবক। তিনি নিজে এসে আমাদের সাথে কথা বলুক, আমাদের বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, তাহলে আমরা যার যার বাসায় চলে যাবো।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিচুর রহমান জানান, পরিচ্ছন্নকর্মীদের বেতন বাড়লেও ফান্ডে টাকা না থাকায় ৩ মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছিল না। বেতন বাড়ার বিষয়টিও তারা জানতো না। পরে তাদের বিষয়টি অবহিত করে নগর ভবন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত