স্টেডিয়ামে ১৩৫ মৃত্যু : ইন্দোনেশিয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা খালাস

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩, ০৪:০২ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় স্টেডিয়ামে ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে ১৩৫ জন নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে দুইজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন স্থানীয় একটি আদালত। তাদের বিরুদ্ধে স্টেডিয়ামে দর্শকদের ওপর টিয়ার গ্যাস ছুড়তে অধস্তনদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) সুরাবায়ার জেলা আদালতের রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ক্ষোভ ও অবিশ্বাসে ফেটে পড়ে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিন মালাং পুলিশের প্রতিরোধ ইউনিটের প্রধান বামবাং সিদ্দিক আসমাদি ও পুলিশ কমিশনার ওয়াহিউ সেতিও প্রানতোকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। প্রধান বিচারক আবু আসমাদ সিদ্দিক আমস্যা বলেন, ‘আসামিদের কাজে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। তাই তারা দোষী নয়।’ তবে আধাসামরিক পুলিশ স্কোয়াডের একটি ইউনিটের নেতৃত্বে থাকা হাসদারমাওয়ানকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই রায়ের সমালোচনা করে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। গত জানুয়ারিতে গোপনে মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচারের সমালোচনা করেছিল।

শুনানির পর সুসিয়ানি নামের এক নারী যার ১৬ বছর বয়সী ছেলে ওই রাতে মাঠে পদদলিত হয়ে মারা যায়, তিনি জানতে চান, ‘সেদিন এত মানুষ মারা যাওয়ার পরেও অভিযুক্তরা কীভাবে বেকসুর খালাস হয়?’ সুসিয়ানি তার মৃত ছেলের ছবি নিয়ে আদালতে এসেছিলেন। রায় পড়ার সময় তাকে ছিন্নভিন্ন দেখাচ্ছিল।

এর আগে সেদিনের ঘটনায় ক্লাব কর্মকর্তাদের কর্তব্যে অবহেলা দেখতে পান আদালত। সে সময় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল হ্যারিস ও ক্লাবের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুকো সুত্রিসনোকে দণ্ডাদেশ দিয়ে জেলে পাঠান আদালত। তাদের মধ্যে হ্যারিসকে ১৮ মাস ও সুকোকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তদন্তে জানা যায়, পূর্ব জাভার মালাং শহরের কাঞ্জুরুহান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। সোশালে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পার্সেবায়া সুরাবায়া এবং আরেমা ফুটবল ক্লাবের এই খেলার শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সমর্থকরা মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছুড়তে শুরু করে। এ সময় হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত