বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ইসরায়েলে প্রায় আড়াই মাস ধরে বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলন থামাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু, যার ফলে দেশটিতে বিচার ব্যবস্থার সংস্কারবিরোধী আন্দোলন আরও গতি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের বিচারব্যবস্থার সংকট কাটাতে আপস করতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট হার্জগ। পার্লামেন্টের হাতে সব ক্ষমতা না রেখে বিচারক নির্বাচক কমিটিতে তিনজন মন্ত্রী, হাই কোর্টের প্রেসিডেন্ট, দুজন বিচারক এবং দুজন সরকারি কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন নেতানিয়াহু। এমনকি দেশটির ক্ষমতাসীন জোটও প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবকে সমর্থন করেনি।
এদিকে নেতানিয়াহু সমঝোতা প্রস্তাব নাকচ করার পর বিক্ষোভ যেন আরও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এদিন বিক্ষোভকারীরা জেরুজালেম থেকে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দিকে একটি বিশাল লাল রঙের রেখা আঁকে এবং ছোট ছোট নৌকা দিয়ে উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফার উপকূল অবরোধ করে রাখে।
অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা হ্রাসে নেতানিয়াহু সরকারের পরিকল্পিত সংস্কার কর্মসূচির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটির পশ্চিমা মিত্ররাও। প্রেসিডেন্ট হার্জগের প্রস্তাবিত সমঝোতার বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, এটি শুধু বিদ্যমান পরিস্থিতিকেই স্থায়ী করবে।
এদিকে বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের বিষয়ে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের বৃহত্তর প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আইন প্রণয়নে সীমিত হবে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা। আইনমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিনের ভাষ্য, সংস্কারের ফলে দেশটির পার্লামেন্ট এবং বিচারক নির্বাচক কমিটির ক্ষমতা বাড়বে।
