বাগাতিপাড়ায় পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব

সেচপাম্পে তালা, ৩০০ বিঘা জমির আবাদ শঙ্কায়

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৩, ১০:৫২ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কমিটি নিয়ে সমস্যার জেরে সেচপাম্প তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় দুই মাস। এতে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ৩০০ বিঘা জমির ফসলের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। সেচ বন্ধ থাকার জন্য কৃষকরা নাটোর বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলীকে দায়ী করেছেন। শিগগিরই সমস্যার সমাধান করে সেচ চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের সুফল ভোগের আশায় ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাগাতিপাড়ার দয়ারাম ইউনিয়নের চন্দ্রখইর গ্রামে গভীর সেচপাম্প স্থাপন করা হয়। এটি পরিচালনার জন্য দুই বছর আগে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে সেই কমিটি দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে আবার কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন নাটোর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মতিন। পরে তিনি স্থানীয় কৃষক আলম মোল্লাকে সভাপতি ও আবদুর রশিদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৮ সদস্যের নতুন কমিটি করেন। তবে মতামত না নিয়ে সদস্য করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ১৪ জন কমিটি থেকে অব্যাহতি নেন। এ সমস্যা সমাধানে সরেজমিনে আসেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মতিন। তবে সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়ে সেচপাম্পের ঘরের চাবি নিয়ে তিনি চলে যান। ফলে বন্ধ হয়ে পড়ে সেচব্যবস্থা। সেচ কার্যক্রম চালু করতে কৃষকরা স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের অফিসে ধরনা দিলেও কোনো সুফল পাননি।

স্থানীয় কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, তার প্রায় ২০ বিঘা কৃষিজমিতে গম, ভুট্টা, রসুন, আম ও কলার বাগান রয়েছে। সেচের অভাবে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধান করে সেচ কার্যক্রম সচল করার দাবি জানান।

অব্যাহতি নেওয়া কমিটির সদস্য পলাশ বলেন, ‘কমিটি নিয়ে বিভিন্ন সময় টালবাহানা করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে যাদের সদস্য করা হয়েছে তার অনেকেই এ বিষয়ে জানেন না। তাই আমরা লিখিতভাবে অব্যাহতি নিয়েছি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সেচ সমস্যা সমাধানের জন্য কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে নাটোর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয় প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মতিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরে অজানা কারণে সাধারণ কৃষকদের কোনো মূল্যায়ন করেননি।’

এ বিষয়ে নাটোর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মতিন বলেন, আগের কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে তা সমাধানের চেষ্টা করি। সমাধান না হওয়ায় অফিসের নির্দেশনায় সেচপাম্পের ঘরের চাবি নিয়ে আসা হয়। সমাধানের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই সেচ কার্যক্রম চালু করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত