ফখরুল বললেন

শান্তি সমাবেশ সরকারের শয়তানি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৩, ০৫:৪০ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জনসভা করতে চাইলে তারা (সরকার) বাধা দেয় না। কিন্তু যখনই আমরা মিছিল-প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করতে যাই, তখনই আটকিয়ে দেয়। এটা আরেকটা শয়তানি। ওরা এটা (জনসভা) দেখিয়ে পাশে আরেকটা সমাবেশ দেয়। নাম দিয়েছে শান্তি সমাবেশ। এই শান্তি সমাবেশ দিলেই আমাদের শান্তি কমিটির কথা মনে পড়ে। ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি পাকিস্তানিরা তৈরি করেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা ও গ্রেপ্তার করতে। সেভাবে তারা এখন প্রতারণা করছে, মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। তারা মনে করছে, মানুষ কিছুই বোঝে না, যা বোঝাব, তাই বুঝবে।’ গতকাল রবিবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একাংশের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। জাগপার প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুর পর দলটি (জাগপা) দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, আরেকটির নেতৃত্বে খন্দকার লুৎফর রহমান। তাসমিয়ার অংশ ১২-দলীয় জোটে এবং লুৎফরের অংশ জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে রয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট চেয়েছি, দিতে হবে। কেন এটা চেয়েছি, তা স্পষ্ট। বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য চাচ্ছি? না। জনগণের অধিকারটা ফিরিয়ে আনতে, মানুষের অধিকার প্রয়োগ, তার ভোট যাকে খুশি তাকে দেবে এবং সেখান থেকে একটা পার্লামেন্ট গঠন হবে। এই জন্য কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট চেয়েছি। কিন্তু এরা (আওয়ামী লীগ সরকার) পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে সাজিয়েছে, সেই সাজানোতে দেখা যাবে, নির্বাচন নির্বাচন একটা খেলা, তামাশা হবে। সেই তামাশায় তারাই নির্বাচিত হয়ে আসবে। ওই ফাঁদে আর বাংলার মানুষ পা দিচ্ছে না। বারবার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার সেটা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘হাতে সময় খুব কম। এরা প্রতারক, ভন্ড। কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট নিয়ে কম দুষ্টামী করেছে, ভন্ডামি করেছে। খায়রুল হক (তৎকালীন প্রধান বিচারপতি) বললেন, এটা নাকি চলবে না, সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওই ভদ্রলোককে একদিন জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টের কমিটি করে সেই সময় সংসদের দলগুলোর মতামত চাইল। আওয়ামী লীগসহ সবাই মতামত দিল, অন্তত দুইটা নির্বাচনে কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট থাকা উচিত। এই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যাওয়ার পর উনি (প্রধানমন্ত্রী) সেটা উল্টে দিলেন। উনি বললেন, না এটা হবে না, দলীয় সরকারের অধীনে হবে। কর্তৃত্ববাদ জমিদারি কাকে বলে?’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বইয়ে রয়েছে এরা (আওয়ামী লীগ) স্বাধীনতার পর ভিন্নমত পোষণকারীদের কীভাবে ধ্বংস, নির্মূল, গুলি করেছে, ত্রিশ হাজার তরুণ যুবককে হত্যা করেছে। এসব কথা বললেই নাকি আমার অন্তরে তারা (ওবায়দুল কাদের) হলাহল দেখতে পান। হলাহল অর্থাৎ বিষ। আমি এসব কথা বলি, তাদের গায়ে আগুন লেগে যায়। আওয়ামী লীগ কোনো দিন গণতন্ত্র সহ্য করতে পারে না। বাংলাদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখছি। ভয়ভীতি এমনভাবে আওয়ামী লীগ ছড়িয়ে দিয়েছে যারা কথা বলত, তারাও এখন কথা বলে না। খুব কষ্ট হচ্ছে এ জন্য যে দেশের মানুষ এত ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেল? এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।’

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে আমরা উঠে আসতে শুরু করেছি। ১৭ জন আমরা প্রাণ দিয়েছি, হাজার হাজার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। ওই দিন (৮ ডিসেম্বর) আমি আর মির্জা আব্বাস (স্থায়ী কমিটির সদস্য) শুধু গ্রেপ্তার হইনি, এর আগের দিন নয়াপল্টনের অফিস থেকে ৪৩৬ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারাগারে কর্মীদের সঙ্গে যে অসভ্য বর্বরোচিত আচরণ করেছে, তা আগে কখনো দেখিনি।’

জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, এনডিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত