আন্তর্জাতিক সুখ দিবস সোমবার (২০ মার্চ)। প্রতি বছর দিনটিতে সুখী দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করে জাতিসংঘ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রকাশ করা হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৩।’ তালিকায় ১৩৭টি দেশের মধ্যে টানা ষষ্ঠবারের মতো শীর্ষে রয়েছে ফিনল্যান্ড। অপরদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৮তম। ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৪। সব মিলিয়ে সুখী দেশের তালিকায় ২৪ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ।
তবে আগের বারের মতোই সুখী দেশের তালিকায় তলানিতে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের নাম। এবার দেশটির এক ধাপ ওপরে রয়েছে লেবানন। প্রায় প্রতিটি সূচকেই সবচেয়ে সুখী ১০ দেশের চেয়ে ৫ পয়েন্ট করে কম পেয়েছে (০ থেকে ১০ এর মধ্যে) তালিকার তলানিতে থাকা দেশগুলো।
এদিকে সুখী দেশের তালিকায় ফিনল্যান্ডের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড। এরপর চতুর্থ থেকে দশম অবস্থানে জায়গা করে নেওয়া দেশগুলো হলো যথাক্রমে ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ ও নিউজিল্যান্ড।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপালের অবস্থান ৭৮, পাকিস্তান ১০৮, শ্রীলঙ্কা ১১২ ও ভারত ১২৬তম অবস্থানে রয়েছে। যদিও এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর (২৫)। এছাড়া তালিকায় রয়েছে আরব আমিরাত (২৬), তাইওয়ান (২৭), সৌদি আরব (৩০), বাহরাইন (৪২), জাপান (৪৭), মালয়েশিয়া (৫৫), দক্ষিণ কোরিয়া (৫৭), থাইল্যান্ড (৬০), মালদ্বীপ (৬৩), চীন (৬৪) ও ফিলিপাইন (৭৬)।
অবশ্য ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে দুই পক্ষের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশ দুটি এখনো শীর্ষ ১০০-তে রয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থান যথাক্রমে ৭০ ও ৯২।
সুখী দেশের তালিকা করার ক্ষেত্রে ছয়টি সূচক যাচাই করা হয়। সূচকগুলো হলো- মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশা, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, বদান্যতা, দুর্নীতি নিয়ে মনোভাব ও ডিসটোপিয়া। খবর সিএনএন ও ফোর্বসের।
২০২২ সালের সুখী দেশের তালিকা করতে গিয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে করোনা মহামারিকে। করোনা সারা বিশ্বকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোভিড-১৯ মানুষের ভালো থাকার খরচ বাড়িয়েছে, সেই সঙ্গে যুক্ত করেছে সীমাহীন বেকারত্ব। এর প্রভাব পড়েছে সূচকে।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২০১২ সালের ১২ জুলাই এই দিনটিকে সুখ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সুখ এবং ভালো থাকাকে একটি সর্বজনীন লক্ষ্য ও প্রত্যাশা নিয়েই দিবসটির উৎপত্তি।
