ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাচ্ছে ৩৫ বেদে পরিবার। নৌকায় নৌকায় ঘুরে বেড়ানো সেই বেদেদের আজ বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় বেদেপল্লীতে আনন্দে জোয়ার বইছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তারই অংশ হিসেবে তাদের ঘর দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের এসব ঘরের উদ্বোধন কার্যক্রমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেবেন।
ঘর পাওয়ার কথা বলে আপ্লুত হয়ে পড়েন পিংকি বেগম। তিনি বলেন, ‘নৌকা থেকে ডেরা। আর ডেরার বদলে অহন বিল্ডিং। আশাও করিনি। কপালে আসছে। শেখ হাসিনারে আল্লাহ ভালো রাখুক। উনি জাতে দেশের মানুষের জন্য আরও করতে পারে সেই দোয়া করি।’
বেদে পরিবারগুলো মূলত নৌকায় বসবাস করে। কেউ কেউ আবার এখন নদীপাড়ে প্লাস্টিকের ডেরা তৈরি করে বসবাস করেন। সাপ খেলা দেখানো, তাবিজ বিক্রি, কবিরাজি, বানর খেলা দেখানোসহ নানা পেশার সঙ্গে তারা জড়িত। বেদে আবদু মিয়ার বয়স ৭০-এর কাছাকাছি। তার বাবা কদম আলীও ছিলেন বেদে। তার জানামতে বংশানুক্রমে পরিবারের কেউ এখনো নিজ ঘরে ঘুমাতে পারেননি। এখন তার সাত ছেলের মধ্যে ছয় ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ে জায়গাসহ ঘর পেয়েছেন। তার সব সন্তানই নৌকায় জন্ম নিয়েছেন উল্লেখ করে এখন বেজায় খুশি বলে এ প্রতিবেদককে জানান। তিনি বলেন, ‘নিজের ঘর দেখে মরতে পারব, এটাই শান্তি। শেখের বেটির কারণেই ঘর পেলাম বাবা।’
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ সেলিম শেখ বলেন, বেদেদের দুর্দশার কথা জেনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরী তাদের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করতে বলেন। স্যারের প্রচেষ্টায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় কাঞ্চনপুর গ্রামের ৪২টি ঘরের মধ্যে ৩৫টি ঘর বেদেদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর তাদের হাতে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমরা তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করব।
