মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের কল্যাণের নামে নিবন্ধনকৃত ২৬২ সংগঠনের বিষয়ে তদন্ত শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। যাচাই শেষে যেসব সংগঠনের কোনো কার্যক্রম ও অস্তিত্ব নেই সেগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে জামুকা। গত সোমবার দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী ও জামুকার চেয়ারম্যান আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং জামুকার মহাপরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম রোহেল। গত ১১ ফেব্রুয়ারি দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ২৭০ সংগঠন’ শিরোনামে ‘বেশিরভাগেরই অস্বিত্ব নেই’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব সংগঠনের দুএকটি ছাড়া সবগুলোই ভুয়া। যেহেতু জামুকা থেকে তারা রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে সেগুলো বাতিল করতে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। তবে, কোনো সংগঠনের অফিস আছে কি-না, মুক্তিযুদ্ধের কল্যাণে কাজ করছে কি-না সেটি আগে তদন্ত করে দেখুক। যদি এগুলোর দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম এবং প্রমাণ না থাকে এগুলোর সব নিবন্ধন বাতিল করা হবে।’
জামুকার মহাপরিচালক জহুরুল ইসলাম রোহেল বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছুদিন আগে পত্রিকায় প্রতিবেদন দেখেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়েছি। সবগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ভুয়া সংগঠন বাতিলের উদ্যোগ সংগঠনের বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করছি।’
জামুকার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জামুকার কাজ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে সহযোগিতা করা। তারা কেন সংগঠনের নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে কাজ করবে। তবে, দেরিতে হলে তাদের এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০২ সালে জামুকা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে জামুকা থেকে বিভিন্ন নামে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের জেলা, উপজেলায় ২৭০টি সমিতি বা সংগঠন নিবন্ধন নিয়েছে। এসবের মধ্যে ঢাকায় সংগঠন হিসেবে নিবন্ধন নিয়েছে ১৩৫টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলসহ হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া এসব সংগঠনের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অনেক সংগঠনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকা- ও আচরণের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব সংগঠনের কাগজে-কলমে ঠিকানা আছে, তবে অনেক সংগঠনের স্থায়ী বা অস্থায়ী কার্যালয় নেই। দিবসীয় কিছু কার্যক্রম ছাড়া এসব সংগঠনের তৎপরতা চোখে পড়ে না খুব একটা। ঢাকায় জামুকার নিবন্ধিত অন্তত আটটি সংগঠনের দেওয়া ঠিকানায় সরেজমিনে গিয়ে কোনোটির কার্যালয়ের খোঁজ মেলেনি।
জামুকার ঊর্ধ্বতন কর্তারা বলেন, সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কর্মকা- ও নিষ্ক্রিয়তায় বিভিন্ন সময়ে ছয়টির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এক নামে দুটি সংগঠন থাকায় এদের নিবন্ধন স্থগিত রাখা হয়েছে। জামুকার নিবন্ধিত সংগঠন এখন পর্যন্ত ২৬২টি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকরা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এদের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ। তারা বলেছেন, জামুকার আশকারায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এরা ব্যবসা খুলে বসেছে। ঠিকানাহীন এসব সংগঠনকে নিয়ে অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছে জামুকা। অনেক সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।
