সাভারে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার অধীন এনএফভিআই শপিং কমপ্লেক্স (অন্ধ মার্কেট) দখল চেষ্টার প্রতিবাদ করায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার অন্তত ১০ সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তরা হলেন-পাভেল আহম্মেদ, আব্দুল ছালাম ফরাজী, বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ, আনোয়ার হোসেন, বেলাল উদ্দিন মনা, রিপন মিয়া, হারুন অর রশিদ, ইজ্জত আলী, হেলাল, মো. ইব্রাহিম বাবু ও জলিল।
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একজনকে আটক করলেও প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে সকালে মার্কেটটি রক্ষার দাবিতে এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পালিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা। এ সময় সাভার বাসস্ট্যান্ডের বিরুলিয়া-সাভার সড়কে মার্কেটের সামনে এ মানববন্ধন করেন প্রায় তিন শতাধিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা।
আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পিএস রাজুর মদতে সন্ত্রাসী পাভেলের উত্থান। সে জাতীয় অন্ধ সংস্থা মার্কেট দখল ও পাঁচ ব্যবসায়ীকে হত্যা চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির বরাবর লিখিত অভিযোগসহ সন্ত্রাসী পাভেল বাহিনীর বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলে পাভেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পাভেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার পুকুরপার গ্রামের হেফজু মিয়ার ছেলে। সে সাভার পৌরসভার শাহীবাগ এলাকায় বসবাস করে নিজেকে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মার্কেট দখলের পাঁয়তারা করছে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হত্যা চেষ্টা, ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা, প্রকাশ্যে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।
জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার মহাসচিব মো. আইউব আলী হাওলাদার বলেন, আমরা তিন শতাধিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিলে মার্কেটটি পরিচালনা করে আসছি। কয়েক মাস আগে পাভেল আহম্মেদ ও আব্দুল ছালাম ফরাজী মিলে দুই তলায় একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করে এবং মার্কেটের দোকানদারদের ভাড়া তাদের কাছে দিতে বলে। গত ১১ জানুয়ারি মার্কেটের কর্মচারী হাসানকে তাদের ভাড়া অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হলে পুলিশ সন্ত্রাসী পাভেলকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে আব্দুল ছালাম ফরাজীকে নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে মার্কেটটি দখলের চেষ্টা করায় আমরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছি। পরে সাভার উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যানের পিএস রাজুর সহযোগী সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান পাভেল ওরফে তোতলা পাভেল বাহিনীর হাত থেকে মার্কেটটি সন্ত্রাস মুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল পালন করেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা পরিচয়দানকারী তোতলা পাভেল ও বাহাদুর ইমতিয়াজসহ একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ এক কোটি টাকা চাঁদা অথবা সমমূল্যের দোকান দাবি করে মার্কেট কর্তৃপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এছাড়াও পাভেল বাহিনী মার্কেটের নির্মিত রিজার্ভ ট্যাংকের ওপরে অর্ধশত দোকান বসিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা অগ্রীম আদায় করে মার্কেটটি দখলের চেষ্টা করেছে। গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা মার্কেটের জমিদারি ভাড়া উত্তোলনও বন্ধ করে দেয়ায় মার্কেটের ব্যাবসায়ী ও ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে আমরা বৃহস্পতিবার সকল দৃষ্টি প্রতিবন্ধিরা একত্রিত হয়ে মার্কেটের সামনে বসানো অস্থায়ী দোকাগুলো উচ্ছেদ করে দিয়েছি।
হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনাকারী তোতলা পাভেলসহ তার বাহিনীর হাত থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের মার্কেটটি রক্ষাসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
