ভুট্টায় ভাগ্য বদলের চেষ্টা চরের চাষিদের

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৩, ১১:২৮ পিএম

বগুড়ায় এবার গত বছরের তুলনায় ভুট্টার চাষ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে উৎপাদন খরচ কম এবং বাজারে দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন।

চলতি বছর জেলায় ভুট্টার চাষ হয়েছে ১২ হাজার ৬ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৭ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলায়। সারিয়াকান্দির বিভিন্ন চরের চাষিরা ভুট্টা চাষ করে তাদের ভাগ্য বদলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলায় এ বছর ১ লাখ ২২ হাজার টন ভুট্টার উৎপাদন হবে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ।

জেলার সারিয়াকান্দি, গাবতলী, ধুনট, শাজাহানপুর, সোনাতলা উপজেলায় প্রতি বছর ভুট্টার চাষ হয়ে থাকে। এসব উপজেলা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা ভুট্টা চাষে খরচ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এক বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়। তবে চর এলাকায় বিঘাপ্রতি ভুট্টার ফলন হয় ৪০ থেকে ৫০ মণ।

সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীবেষ্টিত অনেক চর রয়েছে। উপজেলার চালুয়াবাড়ী, কাজলা, বোহাইল, হাটশেরপুর, কর্ণিবাড়ী, চন্দনবাইশা ও সদর ইউনিয়নের চরের জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। অথচ এই চরগুলোতে আগে বেশিরভাগ জমিতে মরিচের চাষ করতেন কৃষকরা। গত বছর উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছিল। এবার তা দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। আবাদের খরচ কম হওয়ায় অনেকেই চরে ভুট্টার চাষ করছেন। চরের যে দিকে চোখ যায় কেবল সবুজ ভুট্টাগাছ। আবার কোনো জমিতে গাছের পাকা মোচায় থরে থরে গাঁথা সোনালি ভুট্টার দানা।

উপজেলার চাষিরা বলছেন, আগে ফসল চাষ করে তেমন একটা লাভ থাকেনি। এ বছর ভুট্টা চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন তারা। হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া গ্রামের চাষি বাদল রহমান এবছর ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় ৩৫ মণের বেশি ভুট্টা পেয়েছেন। বাজারে প্রতিমণ ভুট্টা বিক্রি করছেন ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। উৎপাদন খরচের দ্বিগুণের বেশি দামে ভুট্টা বিক্রি করতে পেরে খুশি তিনি।

কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ছোনপাচা চরের চাষি খয়ের উদ্দিন, বাবলা শেখ, আবদুল গফুর জানান, চরে অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টার ফলন বেশি হয়। ভুট্টায় কম খরচে লাভ হয় বেশি। এরই মধ্যে ভুট্টা জমি থেকে কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। প্রতি বিঘায় ফলন পাচ্ছেন ৪০ মণের বেশি। মাড়াই করা ভুট্টা বাজারে বিক্রি করছেন ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় ভুট্টা চাষ করে চরের চাষিদের ভাগ্য বদলাচ্ছে। এ মৌসুমে ৭ হাজার ৫১০ টন ভুট্টা উৎপাদন হবে। আর তা ২৫৭ কোটি টাকায় বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, এ মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো। উপজেলায় ভুট্টা চাষে জড়িত রয়েছে প্রায় ২২ হাজার কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার অতিরিক্ত উপপরিচলক (শষ্য) এনামুল হক জানান, আলুর চেয়ে ভুট্টা চাষ লাভজনক, পরিশ্রম কম, উৎপাদন খরচও কম। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় বগুড়ার কৃষকরা ভুট্টা চাষ বেছে নিয়েছেন। গত বছর প্রতিমণ ভুট্টা বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। বিঘাতে ৪০ মণ পর্যন্ত ভুট্টা উৎপাদন হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৭ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়। এ বছর ৮ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮৯ হাজার ৬৮৮ টন। কিন্তু চলতি বছর জেলায় এ পর্যন্ত ভুট্টা চাষ হয়েছে ১২ হাজার ৬ হেক্টর জমিতে। কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এবার জেলায় ১ লাখ ২২ হাজার ৫২৩ টন ভুট্টা উৎপাদন হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত