প্রোগ্রামিংয়ের জগতে নারীদের আরও একধাপ এগিয়ে নিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গার্লস কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ক্লাব আয়োজন করেছিল ‘জাতীয় নারী প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২২’। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫টি দল এতে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটি এসিএম ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইসিপিসি) দ্বারা নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ষষ্ঠ ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় (এনজিপিসি-২০২২) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বুয়েট পাইরেটস’ দল। প্রথম ও দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে যথাক্রমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চুয়েট ম্যালানসটিকটাস’ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘স্মেল লাইকটিম স্পিরিট’।
প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. কায়কোবাদ বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে বাংলাদেশকে এখনই ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। উন্নত দেশের আইসিটি সেক্টরে আমাদের দেশের তরুণেরা ভালো করছে। প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ একটি জাতি তৈরি করা আমাদের জন্য সহজ।’
এনজিপিসি একটি দলীয় ও অনসাইট প্রতিযোগিতা। এতে তিনজনের সমন্বয়ে প্রতিটি দল গঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। দলে তিনজন ছাত্রী থাকলেও প্রতিটি দল শুধুমাত্র একটি কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে। প্রতিযোগিতায় প্রতিটি টিমকে ৫ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়, যেখানে ৮ থেকে ১২টি প্রোগ্রামিং সমস্যা সি, সি ++ এবং জাভায় সমাধান করে জমা দিতে হয়। চ্যাম্পিয়ন ‘বুয়েট পাইরেটস’ দলের রাবেয়া হোসাইন বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিষয় থেকে সমস্যা থাকে। এর মধ্যে ডাইনামিক প্রোগ্রামিং, ডাটা স্ট্রাকচার, এড-হক, গ্রাফ থিওরি, প্রোবাবিলিটি ইত্যাদি বিষয় থেকে আসা সমস্যাগুলো সবচেয়ে বেশি সমাধান করা হয়েছে।’
চ্যাম্পিয়ন দলের নোশিন নাওয়াল বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।’
চ্যাম্পিয়ন ‘বুয়েট পাইরেটস’ দলের রাবেয়া হোসাইন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে খুবই আনন্দিত। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি কনটেস্টয়ের জন্য সময় বের করাটা একটু কষ্টকর। তাও নিয়মিত কনটেস্টয়ের জন্য সময় বের করতে হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।’
