আরপিও সংশোধন প্রস্তাব

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সাংবাদিকদের বাধা দিলে ৭ বছরের জেল

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৩, ০২:৫৯ এএম

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দিলে দুই থেকে সাত বছরের সশ্রম কারাদ-ের বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের যে প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন দিয়েছে, তাতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে জেলার পাশাপাশি আসনভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা রাখার প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মাহমুদুল হোসাইন খান সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, যারা আমাদের গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যবেক্ষক, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটা বিধান রাখা হয়েছে। যদি কেউ গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যবেক্ষকদের তার আইনানুগ কাজে বাধা দেন, সে ক্ষেত্রে দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমকর্মী হিসেবে নির্বাচন কমিশন থেকে যাদের কার্ড দেওয়া হবে, তাদের বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিধান কার্যকর হবে।

মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, ‘আপনার যদি বৈধভাবে প্রবেশ করার অধিকার থাকে, তারপরও আপনাকে বারিত করা হলো বল প্রয়োগ করে, আপনার ক্যামেরা ভেঙে ফেলল, ইত্যাদি অনেক কিছু হতে পারে, সে ক্ষেত্রে দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে।’

পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার পাশাপাশি মোট ১৪টি নতুন ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আদেশ ২০২৩-এর খসড়ায় রয়েছে বলেন জানান সচিব।

মাহমুদুল হোসাইন আরও জানান, আগের আইনে থাকা সম্পদ বিবরণীর পাশাপাশি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে টিআইএন এবং আয়কর জমার রসিদ সংযুক্তির বাধ্যবাধকতা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সচিব বলেন, ‘মনোনয়নপত্রের সঙ্গে টিআইএন সার্টিফিকেট সংযুক্ত করতে হবে এবং কত টাকা আয়কর দিয়েছেন, সেই রসিদের অনুলিপিও সাবমিট (দাখিল) করতে হবে। আগে এটা ছিল না। আগে শুধু সম্পদ বিবরণীর অংশ ছিল, এখন এ দুটো সংযুক্ত করা হয়েছে।’

সাত দিনের পরিবর্তে এক দিন আগেও পরিষেবা বিল পরিশোধ করে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারার প্রস্তাব যুক্ত করার কথা জানিয়ে সচিব মাহমুদুল বলেন, ‘আগে যেটা ছিল, যেদিন সে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন, তার সাত দিন আগে জমা দিতে হতো। না হয় মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হতো। এখন ইউটিলিটি বিল যেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেবেন, তার আগের দিন পর্যন্ত দাখিল করতে পারবেন।’

রিটার্নিং কর্মকর্তার বিধানে পরিবর্তনের প্রস্তাব আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগের আইনে প্রতি জেলায় একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলার সবকটি সংসদীয় আসনের নির্বাচন পরিচালনা করতেন। সংশোধিত আইনে প্রতি সংসদীয় আসনের জন্য একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্টের পরিবর্তন করে কন্সটিটিউয়েন্সি করা হয়েছে। আগে ছিল জেলায় একজন, এখন প্রতি সংসদীয় আসনে একজন থাকবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হবে তা এখন আইনে উল্লেখ নেই। তবে প্রথাগতভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়। সেই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৬ জন রিটার্নিং অফিসার (৬৪ জেলা প্রশাসক ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বিভাগীয় কমিশনার দুজন) এবং ৫৭৭ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি, আরও কিছু সংশোধনের আছে, আরও কিছু মতামতসহ এটা আবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হবে। তখন আরও কিছু যদি সংযোজন হয়, তারপর চূড়ান্ত করা হবে।

ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হবে অনলাইনে : মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এ আইনানুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের বর্ষটি অর্থবছর (জুন-জুলাই) অনুযায়ী হবে। এতদিন তা বাংলা সন (বৈশাখ-চৈত্র) অনুযায়ী হতো। এ ছাড়া সব ভূমি উন্নয়ন কর অনলাইনে পরিশোধ করা হবে। কার কত ভূমি উন্নয়ন কর, তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় এবং ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে টানিয়ে দেওয়া হবে। তা নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে সেটিরও সুযোগ রাখা হয়েছে।

খসড়া আইন অনুযায়ী এখন থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হবে জানিয়ে সচিব বলেন, ম্যানুয়ালি আর কর আদায় করা যাবে না। কোনো ভূমির মালিক যদি একসঙ্গে তিন বছর ভূমি উন্নয়ন কর না দিয়ে থাকেন তাহলে প্রথম বছর থেকে তৃতীয় বছর পর্যন্ত সোয়া ৬ শতাংশ হারে জরিমানাসহ কর আদায় করতে হবে। ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবহারভিত্তিক হবে। আগের ২৫ বিঘা পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ ছিল, এখনো সেটা বলবৎ আছে। কেউ যদি ২৫ বিঘার বেশি জমির মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে পুরোটারই ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হবে।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সচিব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত