খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ‘ইফতার প্রতিদিন’

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৩, ১১:২৬ পিএম

ময়মনসিংহে পথচারী গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ‘ইফতার প্রতিদিন’ চালু করেছে এ বি এম আক্তারুজ্জামান রবিন। নগরীর মিন্টু কলেজ রেল ক্রসিংয়ের সামনে রমজান মাসব্যাপী প্রতিদিন প্রায় তিনশত মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করা হয়।  গত বছর চালু হওয়া এই কর্মসূচি মানুষের মধ্যে দিন দিন বাড়ছে এর ব্যাপকতা। এখন প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে ৩০০ মানুষ এখানে ইফতার গ্রহণ করেন। এটি প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বলে জানান আয়োজকরা। এখানে পথচারী ছাড়াও রিক্সাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা, দিনমজুর, এলাকার দোকানদার, ব্যবসায়ী সবাই একসঙ্গে প্রতিদিন আয়োজকদের নিজেদের প্রস্তুতকৃত ইফতারে সামিল হন। বুট, মুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, সালাদে মাখিয়ে ওয়ানটাইম প্লেটে পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় খেজুর, জিলাপি ও সরবত। এ ছাড়া সপ্তাহে দুই দিন বিরিয়ানি ও খিচুড়ি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আয়োজকরা। ইফতারের সময় একেবারে কাছাকাছি। রেলওয়ে স্টেশন থেকে রেললাইন ধরে ইফতার বিতরণ প্যান্ডেলের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন একদল নির্মাণ শ্রমিক। তাদেরকেও ডেকে বসানো হয় ইফতার গ্রহণ করতে। শ্রমিকরা কিছুটা হতচকিত। প্রায় ৮/১০ জনের এই শ্রমিকের মধ্যে একজন বৃদ্ধ বললেন, ‘আল্লাহ আপনাগো ভালো করুক। আমরা গৌরীপুর থেইক্যা আইছি। ইফতার কই খুলুম তাই তারাতারি যাইতাছিলাম। আল্লাই ব্যবস্থা কইরা দিসে।’ দাপুনিয়া এলাকার ১৫ বছর বয়সী তরুণ রাকিব হাসান নগরীতে হকারি করেন। সারাদিন অক্লান্ত খাটুনির মধ্যেও তিনি রোজা ছাড়েন না। হেঁটে যাচ্ছিলেন মিন্টু কলেজের সামনে দিয়ে। একজন ডেকে বললেন, ভাই! ইফতার করে যান। ইফতার খেয়ে তৃপ্তির প্রকাশ করল সে। ইফতার প্রতিদিন এর অন্যতম আয়োজক জেলা যুবলীগের সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আক্তারুজ্জামান রবিন বলেন, বিনামূল্যে ইফতার পেয়ে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে যে খুশি দেখতে পাই, এখানেই তৃপ্তি। মুসলমান হিসাবে সওয়াব হাসিল করার সুযোগ নিচ্ছি, সেই সঙ্গে নিজ দলের জন্যও ভালো কিছু করলাম। সম্পূর্ণ নিজস্ব টাকায় এই আয়োজন। কেউ যদি কোনো সহায়তা করতে আগ্রহী হয় তাহলে তা সাদরে গ্রহণ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত