ঈদের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত দর্জিরা

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৫৮ পিএম

ঈদের আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় নতুন পোশাক। ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসে, মার্কেটের পাশাপাশি মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে দর্জিপাড়ায়। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এবারের ঈদুল ফিতর ঘিরেও এর ব্যতয় ঘটেনি। আসছে ঈদ আর সেই সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিদের।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারসহ ইউনিয়নভিত্তিক বাজারগুলোতেও এখন কানে বাজে সেলাই মেশিনের শব্দ। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মনের মতো ডিজাইনের পোশাক বানাতে মানুষ ভিড় করছেন দর্জিপাড়ায়।

পৌর এলাকার দত্তপাড়ার শাহানা আক্তার বলেন, ‘ঈদে তো নতুন পোশাক সবারই চাই। নিজের পছন্দমতো কাপড় কিনে পোশাক বানাতে দিয়েছি দর্জির দোকানে।’

দর্জিরা বলছেন, ঈদ ঘিরেই তাদের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি থাকে। রোজার শুরু থেকেই ঈদের পোশাক বানাতে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। দিন গড়াতে চাপ আরও বাড়বে। নামকরা টেইলারিং হাউজগুলোর পাশাপাশি ছোট ছোট দর্জি দোকানের কারিগরদের ব্যস্ততাও বেড়ে গেছে। বেড়েছে গজ কাপড়ের কেনাবেচাও।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার, মাইজবাগ, উচাখিলা, আঠারবাড়ি বাজারের দর্জিপাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

টেইলার্সের কাটিং মাস্টাররা বলছেন, কাজের অর্ডার এখন পর্যন্ত ভালো। অর্ডার আরও বাড়তে পারে। তাদের কাজ চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। তবে যাদের দোকানে লোকবলের অভাব তারা অর্ডার ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

জানা গেছে, শার্ট-প্যান্টের পাশাপাশি ছেলেদের বেশি আগ্রহ পাঞ্জাবিতে। মেয়েদের পছন্দ সালোয়ার-কামিজ আর কারুকাজে সজ্জিত ফোর পিসে। সঙ্গে রয়েছে নানা রঙের বোরকা। এটিও এখন অনেক তরুণীর ফ্যাশনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈশ^রগঞ্জ পৌর বাজারে আল আমিন টেইলার্সের কাটিং মাস্টার আল আমিন বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আমাদের অর্ডার বেশি। গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে ঈদে মার্কেট এত জমজমাট ছিল না। তাই আমাদের ব্যস্ততাও তেমন ছিল না। এবার চাপ একটু বেশিই হবে মনে হচ্ছে। তার মতে, সব কিছুর দাম বাড়ছে মজুরিও কিছুটা বেড়েছে ।

উজ্জ্বল টেইলার্স অ্যান্ড ইমাম উদ্দীন বস্ত্রালয়ের মালিক কাটিং মাস্টার উজ্জ্বল বলেন, দিন যতই যাচ্ছে, ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। মজুরিও বেড়েছে। এখন আর নতুন কোনো অর্ডার নিচ্ছি না। মজুরি বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুতা ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মজুরি বেড়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে কাপড় কিনতে আসা গৃহবধূ নুসরাত জাহান পিংকি বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদে কাপড় কিনে জামা বানাই। কিন্তু এ বছর কাপড়ের দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। আবার দর্জিরাও গত বছরের তুলনায় এ বছর মজুরি একটু বেশি চাচ্ছেন। সব মিলিয়ে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটু ঝামেলাই বটে।’

ঈশ্বরগঞ্জের টেইলার্সভেদে একটি প্যান্ট সেলাইয়ের মজুরি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, শার্ট ৪০০ থেকে ৫০০, পাঞ্জাবি  ৪০০ থেকে ৬০০, সালোয়ার কামিজ ৪০০ থেকে ৬০০, ব্লাউজ ৪০০, ব্লাউজ (সুতি) ৩৫০, পেটিকোট ৬০ থেকে ১২০, ম্যাক্সি ৩০০ থেকে ৬০০, বোরকা ডিজাইনের তারতম্য অনুযায়ী ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত