গত বছর, ১৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে খুন হন সাদিয়া মঞ্জুর নামে ৩৯ বছরের এক নারী। তিনি ছিলেন পাকিস্তানি আমেরিকান। থাকতেন টেক্সাসের এক বিলাসবহুল এলাকায়। সাদিয়া তার পাকিস্তানি স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ডিভোর্স চেয়েছিলেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ঘাতক স্বামী তাকেসহ একসঙ্গে হত্যা করেন তার মা ইনায়েত বিবি ও কন্যা খাদিজাকে, যার বয়স ছিল মাত্র ৪ বছর। পরে অবশ্য তিনিও আত্মহত্যা করেছিলেন।
মার্কিন বিচার বিভাগকে উদ্ধৃত করে ডন জানিয়েছে, স্বামীকে ডিভোর্স দিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাকিস্তানি নারীকে হত্যার শিকার হতে হয়। দেশের সীমানা ডিঙিয়ে পাকিস্তানি নারীদের সহিংসতার শিকার হওয়ার প্রবণতা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পরিলক্ষিত হচ্ছে।
নারীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশের তালিকার উপরের দিকে পাকিস্তান অনেক বছর ধরে অবস্থান করছে ৷বিশ্বের অনেক দেশে নারী নির্যাতনের বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হলেও পাকিস্তানের মেয়েরা একধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক চাপের কারণে তাদের ওপরে চালানো নির্যাতনের বিষয়টি গোপন করে যান। আর এ কারণে ক্রমন্বয়ে তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলক্রমে যৌন নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার হার বেড়েই চলেছে দেশটিতে। দেশটির অধিকাংশরাই মনে করেন রাষ্ট্রিয়ভাবে নারীর জন্য পাকিস্তান একটি অনিরাপদ দেশ।
করাচিভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান পালস কনসালট্যান্ট সম্প্রতি এক জরিপে এমনটাই জানিয়েছে। দেশটির ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন পাকিস্তানি কোনো নারীই নিরাপদ নন। ১৮ হাজার পাকিস্তানি নারীদের নিয়ে জরিপটি করা হয়েছিল।
পাকিস্তানে পারিবারিক সহিংসতা একটি সামাজিক ব্যাধি এবং গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি সমীক্ষা অনুসারে, পাকিস্তানে ১০ থেকে ২০ শতাংশ নারী কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। জিও নিউজের এক প্রতিবেদন অনুসারে প্রতিবছর গড়ে আনুমানিক ৫ হাজার নারী পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়, আর হাজার হাজার নারী পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী হয়। বিবাহিত নারীরা তাদের স্বামীদের দ্বারা শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং যৌন নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন।
থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষায় আফগানিস্তান এবং কঙ্গোর পরে নারীদের জন্য বিশ্বের তৃতীয় সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সহিংসতার শিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীরা সেখানে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে না কারণ দেশটিতে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ পারিবারিক সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে দেখে না এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসংক্রান্ত কোনো মামলা নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে। সহিসংতার শিকার নারীদের জন্য দেশটিতে সেভাবে কোনো সেফ হোম না থাকায় সহিংস পরিস্থিতিতে পালানোর চেয়ে মুখ বুজে তা সহ্য করার পথ বেছে নিতে হয় আক্রান্ত নারীদের।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ৭০ থেকে ৯০ ভাগ নারী কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। করাচিতে একবার পারিবারিক সহিংসতার বিষয়ে তাদের মতামত সম্পর্কে ১৭৬ জন বিবাহিত পুরুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে ৪৬% বলেছেন যে, পুরুষদের তাদের স্ত্রীদের মারধর করার অধিকার রয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৫% নিজের মাকে শারীরিক সহিংসতার শিকার হতে দেখেছেন। মানসিকতা, এবং ধর্মের অপব্যাখ্যার কারণে নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা অনেক বেশি পাকিস্তানে। স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজন সাধারণত এসব সহিংসতায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। কখনও কখনও নিজের বাবা বা ভাইদের হাতেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে পাকিস্তানের নারীদের। শুধু শারীরিক সহিংসতাই নয়, পাকিস্তানে নারীরা বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হন বহুবার। বৈবাহিক ধর্ষণ হলো স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন। ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে পাকিস্তানে স্ত্রীর একমাত্র মালিক এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে স্বামীকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যে কারণে সেখানের বেশির ভাগ পুরুষরা স্ত্রীর অমতে যৌন মিলনকে অতি সাধারণ ঘটনা হিসেবে মনে করেন।
গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও গিলগিট বালতিস্তান প্রদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৪০ শতাংশ মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা থেকে নারীদের অনিরাপদ বলেছেন। পাকিস্তানে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেক রকমের। গার্হস্থ্য নির্যাতন শারীরিক, মানসিক বা মানসিক নির্যাতনের রূপ নিতে পারে এবং মোটামুটি সাধারণ। ধর্ষণ সেখানে একটা প্রাত্যহিক ঘটনা। কিন্তু সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ধর্ষণের কম ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত গিলগিট বালতিস্তানে তার জনগণের মধ্যে উচ্চ শিক্ষার হার নিয়ে গর্ব করে। কিন্তু স্কুল এবং কলেজগামী মেয়েরা সেখানে নিরাপদ নয়। উচ্চ স্বাক্ষরতাও দেশটি তাদের নারী ও শিশুদের পারিবারিক সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারছে না। ইউনিসেফ আয়োজিত একটি সেমিনার ক্রমবর্ধমান লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার, বিশেষ করে, নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানে কন্যাশিশু নির্যাতন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক কারণ বেশির ভাগ সময়ই এ ধরনের ক্ষেত্রে আইনের কোনো পদক্ষেপ ও প্রয়োগ নেই। সমীক্ষা অনুযায়ী, গিলগিট বালতিস্তানের বিবাহিত মহিলারা সবচেয়ে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। (৬৯.৮%), শারীরিক (৩৭.৫%) এবং যৌন (২১.২%)। সমীক্ষা অনুসারে, গিলগিট বালতিস্তানের ৭৮% নারী স্ত্রী-প্রহারকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিয়েছেন। এবং তারা সামাজিক চাপে এটিকে সমর্থনও করেন। তারা বলেন 'স্ত্রী স্বামীকে না বলে বাইরে গেলে, সন্তানদের অবহেলা করলে, স্বামীর সাথে ঝগড়া করলে, যৌন মিলন করতে রাজি না হলে বা খাবার রান্না করতে যেয়ে পুড়িয়ে ফেললে শাস্তি হিসেবে মারধরের শিকার হতেই পারে।'
পাকিস্তানের টেকসই সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (এসএসডিও) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে কেবল পাঞ্জাব প্রদেশেই ৬ হাজার ৭৫৪ জন নারী অপহরণ হয়েছেন। এ ছাড়া ১ হাজার ৮৯০ জন ধর্ষণের শিকার এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ৩ হাজার ৭২১টি রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু ঘরে নয়, পেশাজীবী নারীরাও সেখানে নিরাপদ নয়। বেলুচিস্তানের সাবেক আইনপ্রণেতা ইয়াসমিন লাহিড়ি বলেন, এক নারী আইনজীবীকে ছুরি দিয়ে ১২ বার আঘাত করার পরও আদালত এক ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস দিয়ে দিয়েছে। ২০০২ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়া অধিকারকর্মী মুখতার মাই বলেন, বেশির ভাগ পাকিস্তানি পুরুষ নারীকে পেটানোকে কোনো সহিংসতাই মনে করে না। পাকিস্তানি সমাজ এখনও সামন্তবাদী এবং গোত্রবাদী প্রথা থেকে বের হতে পারেনি বলেও মনে করেন তিনি।
নারীর প্রতি সহিংসতার জন্য সমাজের পুরুষতান্ত্রিক আচরণকেও দায়ী করেন অনেকে। লাহোরভিত্তিক নারীবাদী আন্দোলনকারী মাহনাজ রেহমান বলেন, যখনই নারীরা তাদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয় তখনই তাদের সহিংসতার শিকার হতে হয়। তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষা দেওয়া হয় পুরুষকে মান্য করে চলার জন্য, কারণ, পরিবারে তাদের স্ট্যাটাস উঁচুতে।
এ বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের নারীরা র্যালি বের করেছিল। কিন্তু তাদের ওই র্যালিতে পুলিশ অতর্কিত হামলা করে। মিছিলের নারীরা অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ তাদের সমাবেশ বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এ ব্যাপারে বলেছে, ধর্মীয় সংগঠনগুলোও নারীদের সমাবেশে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তারা উদ্বিগ্ন।
লাহোরভিত্তিক অ্যাক্টিভিস্ট সাজিয়া খান মনে করেন, কিছু কিছু পুরুষ ধর্মীয় শিক্ষার কারণে নিজেদের আলাদা ভাবতে শুরু করেন। তিনি বলেন, আলেমরা এমনভাবে ধর্মের ব্যাখ্যা দেন যে পুরুষরা মনে করে তারা নারীদের পেটাতেই পারে। তারা বাল্যবিয়েও সমর্থন করে এবং নারীদের বলে, স্বামী মারধর করলেও তাকে মেনে চলতে। অনেক অধিকারকর্মীই নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ার ক্ষেত্রে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অভিযুক্ত করেছেন। 'সহিংসতার শিকার নারীকেই উলটো দায়ী' তার এ রকম মন্তব্যের কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
গত বছরের মাঝামাঝিতে ইমরান খান যৌন নির্যাতনের জন্য নারীকেই দায়ী করে বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন। মার্কিন টিভি চ্যানেল এইচবিওতে ডকুমেন্টারি নিউজ সিরিজ এক্সিওস-এর জন্য দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নারী যদি খুব কম কাপড় পরে তাহলে পুরুষের ওপর তার প্রভাব পড়তেই পারে, যদি তারা রোবট না হয়। এটাকে 'সাধারণ জ্ঞান' বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়াও একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে 'পর্দা'র অভাবকে দায়ী করে বক্তব্য দেন তিনি। অধিকারকর্মীরা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার মন্ত্রীদের একের পর এক নারীবিরোধী মন্তব্য নারীবিদ্বেষ এবং নারীর প্রতি সহিংসতাকেও এক প্রকার উসকে দিয়েছে। তারা মনে করেন, ইমরান খানের সাবেক সরকার নারীদের রক্ষায় কিছুই করেনি। বরং নারীর প্রতি সহিংসতা দমনে একটি আইন দেশের ইসলামিক আলেমদের কাছে পাঠানোর পর তারা তা আটকে দিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে বর্তমান শাহবাজ সরকারও নিশ্চুপ ভুমিকা পালন করছেন।
নারীর প্রতি সহিংসতার সাংস্কৃতি এখন দেশটির সীমানা ডিঙ্গিয়ে বিদেশেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিদেশের মাটিতেও এখন আর সুরক্ষিত নন পাকিস্তানি নারীরা। যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সন্তানসহ পাকিস্তানি নারীদের গুলি করে মারার ঘটনাও প্রকাশ পাচ্ছে সংবাদপত্রে। ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর টরেন্টোর একটি লেক থেকে উদ্ধার করা হয় বালুচ আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী এবং কানাডায় নির্বাসিতা করিমা বালুচের মৃতদেহ। তিনি দু'দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। কানাডার পুলিশ ধারণা করেছিল, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তবে বালুচরা বিশ্বাস করেন, করিমাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ঘাতক কোনো প্রমাণ রাখেনি।
গত বছর স্পেন থেকে কৌশলে পাকিস্তানে নিয়ে আসা দুই বোন অনিষা ও আরুজ আব্বাসকে হত্যা করে তাদের আপন ভাই ও পরিবারের লোকেরা। ডন এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ২০ মে পাকিস্তানের গুজরাট শহরে দুই বোনকেই ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়। তাদের অমতে ২০২০ সালে আপন দুই চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে পারিবারিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তারা ডিভোর্স দিতে চাইলে তাদের কৌশলে স্পেন থেকে পাকিস্তানে এনে পাঞ্জাবের গুজরাট শহরে গুলি করে হত্যা করে তাদের আপন বড় ভাই। পরে ভাইসহ পরিবারের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মানবাধিকারকর্মীদের ধারণা, তাদের কোনো শাস্তি হবে না। কারণ নারীকে হত্যা করাটাই এখন পাকিস্তানের নিয়ম হয়ে উঠেছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে হোক বা দাম্পত্য জীবনের অশান্তি, নারী মানে শুধু ভোগ্যপণ্যই নয়, তাকে হত্যা করার অধিকারও পাকিস্তানি পুরুষদের রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
পাকিস্তানে অনার কিলিং সামাজিকভাবে একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয়। স্থানীয়ভাবে এটি করো-কারি নামে পরিচিত। অনার কিলিং হলো একটি পরিবারের বা সামাজিক গোষ্ঠীর কোনো নারী যদি অসম্মানজনক কোনো কাজ করে তাকে ওই পরিবারের লোক দিয়েই হত্যা করা। ভুক্তভোগীর মৃত্যুকে পরিবারের খ্যাতি ও সম্মান পুনরুদ্ধার করার উপায় হিসেবে দেখা হয়। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের মতে, ২০২১ সালে পাকিস্তানে অনার কিলিং এর ৪৭০ টিরও বেশি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। কিন্তু মানবাধিকারকর্মীদের অনুমান, পারিবারিক সম্মান বাঁচানোর নাম করে প্রতি বছর ১ হাজার নারীকে হত্যা করা হয়।
গত ৫০ বছর ধরে পাকিস্তানে অনার কিলিং একটি সামাজিক প্রথা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক আইনি সংস্কার সত্ত্বেও, এটি আজও পাকিস্তানে একটি সাধারণ অভ্যাস। আন্তর্জাতিক এবং পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মীরা এই প্রথা বিলুপ্তির জন্য চাপ দিয়ে আসলেও আদতে কোনো কাজ হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এসব বিষয়ে তাদের চরম উদাসীনতা প্রকাশ করে আসছে যা দেশটিতে বসবাসরত নারীদের আরও অসহায় করে তুলছে।
(প্রকাশিত লেখার আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায় সম্পূর্ণরূপে লেখকের, এর কোনো প্রকার দায়ভার দেশ রূপান্তর নেবে না)