দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর যুদ্ধাপরাধ বিচার এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেন ফেরেনজ নামটি।
১৯২০ সালে রোমানিয়ার ট্রান্সিলভানিয়ায় এক ইহুদি পরিবারে জন্ম তার। পরে ইহুদিবিদ্বেষ থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায় তার পরিবার এবং নিউ ইয়র্কে থাকা শুরু করে। হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে ১৯৪৩ সালে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট পদে যোগ দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন ফেরেনজ। পরে নাৎসিদের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি দলে যোগ দেন। সে সময় তার বয়স মাত্র ২৭ বছর। যুদ্ধাপরাধের তদন্তের বিষয়ে ফেরেনজ লিখেছিলেন, ‘নাৎসিদের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তাতে আমি নিঃসন্দেহে মানসিক আঘাতে পেয়েছিলাম। সেগুলো নিয়ে আমি কম চিন্তা করতে আর কম কথা বলতে চেষ্টা করি।’
যুদ্ধের পর ফেরেনজ আইন পেশায় অনুশীলনের জন্য নিউ ইয়র্কে ফিরে যান। এর কিছুদিন পরই নুরেমবার্গে নাৎসিদের বিচার কাজে সাহায্য করার জন্য তাকে নিয়োগ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ওই সময়ে বিচারে অভিযোগ আনা হয়েছিল ২৪ জন নাৎসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দোষীসাব্যস্ত হয়েছিল ১৯ জন। খালাস পায় ৩ জন। ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১০ জনের দণ্ড কার্যকর হয়।
ফেরেনজ বিচারের পর পশ্চিম জার্মানিতে থেকে গিয়েছিলেন। দেশটির তৎকালীন নতুন সরকারের কাছ থেকে ইহুদিদের ক্ষতিপূরণ পেতেও সহায়তা করেছিলেন তিনি। ফেরেনজের সক্রিয়তায় ২০০২ সালে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-এ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়।
একেবারে তরুণ বয়সে নুরেমবার্গ বিচারের বিশাল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া বেন ফেরেনজ ১০৩ বছর বয়সে মারা গেলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নুরেমবার্গ বিচারের শেষ জীবিত কৌঁসুলি ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গত শুক্রবার ফেরেনজ ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। শৈশব থেকে তার আজীবনের সঙ্গী স্ত্রী গার্টরুড ফ্রাইড মারা যান ২০১৯ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মিউজিয়াম ফেরেনজের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেছে, ‘গণহত্যার শিকার হওয়াদের জন্য ন্যায়বিচার সন্ধানী এক নেতাকে হারাল বিশ্ব।’
