অনেক পশ্চিমা দেশ যখন তাদের কার্বন নির্গমন কমাতে পারমাণবিক শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, ঠিক সে সময়ে জার্মানি তার পারমাণবিক যুগের প্রাথমিক অবসান ঘটাচ্ছে। স্থানীয় সময় শনিবার জার্মানির শেষ তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জ্বালানির উৎস হিসেবে প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ ত্যাগ করল দেশটি। ২০০২ সাল থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের চেষ্টায় ছিল জার্মানি। ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের শাসনামলে এই প্রক্রিয়াটি গতি পায়। ২০০৩ সাল থেকে দেশটিতে ১৬টি চুল্লি বন্ধ করা হয়েছে।
গত বছর জার্মানির উৎপাদিত বিদ্যুতের ছয় শতাংশ এসেছিল এই তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। ১৯৯৭ সালে দেশটির মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুতের হারছিল ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে ২০২২ সালে জার্মানিতে উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ছিল ৪৬ শতাংশ। যা এক দশকের আগের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই হারে জার্মানি যদি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তবে তা চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে।
এদিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে সরে আসায় জার্মানিতে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, কেউ কেউ সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী বলছে। কারণ যখন পৃথিবীর দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে আনতে চাইছে তখন জার্মানি ঝুঁকছে পুরনো জ্বালানিতে। এখন আবার জ্বালানির জন্য গ্যাস এবং কয়লা নির্ভর হতে যাচ্ছে জার্মানি। পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে সরে আসার পর থেকে দেশটির শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা ৩০ শতাংশই কয়লা নির্ভর বলে জানিয়েছে সিএনএন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর জার্মানির পক্ষে সস্তায় জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছিলেন। সে সময় চ্যান্সেলরের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শলৎজ। এফডিপি সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করলেও শলৎজ নিজের সিদ্ধান্তে এখনো অটল। এমনকি কেন্দ্রগুলো অকেজো করার বদলে রিজার্ভ হিসেবে রেখে দেওয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
যদিও শনিবার বিদ্যুতের গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হবে না। অনেক দিন ধরে সেই কাজের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপদে সেই প্রক্রিয়া চালাতে ধীরে ধীরে চুল্লিগুলো ঠান্ডা করতে হবে। পানিভরা চুল্লির মধ্য থেকে জ্বালানি অবশেষ বের করে নিতে হবে। কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হতে কয়েক বছর লাগতে পারে।
