যারা হৃদরোগে ভুগছেন, যাদের হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের অবশ্যই সাহরি ও ইফতারে সঠিক ও সুষম খাবার খাওয়া বাধ্যতামূলক। কেননা হৃদরোগীদের জন্য খাদ্যে উপস্থিত সোডিয়াম ও চর্বি—এই দুটি পুষ্টি উপাদানই অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
- ইফতারে ছোলাভুনা ও তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে দই-চিড়া, সবজি-খিচুড়ি, দই সালাদ, ফ্রু্রুটস সালাদ খাওয়ার অভ্যাস করা অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। এ ছাড়া কোনো হৃদরোগী ইচ্ছামতো তেলে ভাজা খাবার রোজার সারা মাসব্যাপী খেতে পারবেন না।
- ইফতারে প্লেটে রাখুন ডিম সিদ্ধ, ছানা, রসালো ফল, ফলের রস, ডাবের পানি, আখের গুড়ের সঙ্গে লেবুর শরবত, লাচ্ছি, মাঠা, টক দই, ফালুদা, ফ্রু্রুটস সালাদ, সাগুদানার ডেজার্ট প্রভৃতি। তবে ডায়াবেটিস থাকলে অবশ্যই চিনি এড়িয়ে চলুন।
- সাহরি ও রাতের খাবারে সবজি, মাছের পাতলা ঝোল, মুরগির তরকারি রাখতে পারেন মেন্যুতে। অবশ্যই মাছের চামড়া, মাছের ডিম ও মাথা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। মাছ ভেজে রান্না না করে চেষ্টা করুন না ভেজে বা কষিয়ে রান্না করতে। রাতে ও সাহরির মেন্যুতে রাখুন আম-ডাল, শজনে ডাল, করলার ঝোল।
- সাহরিতে চাইলে খেতে পারেন স্যুপ, স্টু, সবজির স্যুপ, ওটস, সিরিয়াল, লো ফ্যাট দুধ, কিংবা দুধ-ভাত।
- ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত খাবারে যেন অতিরিক্ত লবণ না থাকে। ইফতারে অবশ্যই বাইরের বা রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করে ঘরে তৈরি খাবার খান এবং সব ধরনের প্রসেস ফুডসহ টেস্টিং সল্ট, সোডা, নানা ধরনের কমার্শিয়াল সস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
- যেসব রোগী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করছেন, তারা অবশ্যই নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে রোজা রাখার উপায়কে করতে পারেন সহজতর।
