আওয়ামী লীগ-জেপি সংঘর্ষ সাংবাদিকসহ আহত ১৪

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৪৫ এএম

ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি জেপি (মঞ্জু) এর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার তেলিখালী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ৫টি গাড়ি ভাঙচুর ও ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক সাংবাদিকসহ জাতীয় পার্টির ৩ জন এবং ছাত্রলীগের ১০ জন আহত হওয়ার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম উজ্জ¦ল তালুকদার বলেন, ‘তেলিখালী ইউনিয়নের মির্জা বাড়ির ঈদগাহ ময়দানে জাতীয় পার্টি জেপি ও এর অঙ্গসংগঠনের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের জন্য গত রবিবার রাতে অনুষ্ঠান স্থলে প্যান্ডেল নির্মাণ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা বাধা দেয়। পরে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সোমবার বাদ আছর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে আমরা ভান্ডারিয়া থেকে তেলীখালীতে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মহড়া দেয়। এ সময় তারা জেপির ভান্ডারিয়া অফিস কার্যালয়ের সহকারী ইছারুল্লাহ নোমানের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। দোয়া-মোনাজাত ও ইফতার শেষে আমরা ফেরার পথে তেলিখালী এলাকায় আমাদের ওপর ৪ দফা হামলা হয়। তেলীখালীতে ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজের বাড়ি। তার অনুসারীরাই এই হামলা চালিয়েছে। হামলায় দৈনিক ইত্তেফাকের ভান্ডারিয়া সংবাদদাতা শঙ্কর জিৎ সমদ্দরসহ অপর তিন জন আহত হয় এবং আমাদের বহনকারী ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।’

অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ বলেন, ‘তেলিখালীতে একটি ইফতার পার্টি শেষে জেপি’র দলীয় নেতা-কর্মীরা ভান্ডারিয়ায় ফেরার পথে স্থানীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এর কিছু সময় পরে ভান্ডারিয়া জেপি এর দলীয় নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে রাত ৯টার দিকে দক্ষিণ শিয়ালকাঠী ঈদগাঁও মাঠসংলগ্ন আমার ব্যবসায়ীক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং লুটপাট করে। পরে সন্ত্রাসীরা উপজেলা সংলগ্ন আমার ভবনে হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।

হামলায় উপজেলা ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।’

ভান্ডারিয়া থানার ওসি মো. আসিকুজ্জামান বলেন, ‘তেলীখালী এলাকায় একটি ইফতার পার্টি শেষে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও জেপি (মঞ্জু) সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন আছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘হামলায় উভয়পক্ষের লোকই আহত হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত