যশোরে লস প্রজেক্টের ঈদবাজার স্বস্তি দিয়েছে ৫৫৭ পরিবারকে। এই বাজারে বিক্রি হয়েছে ২৯০ টাকা কেজি গরুর মাংস, ৮০ টাকা কেজি পোলাওয়ের চাল, ১২০ টাকা লিটার সয়াবিন তেল আর ৪৫ টাকায় চিনি। আর এই পণ্য কিনে সঙ্গে উপহার হিসেবে মিলছে সেমাই, কিশমিশ, বাদাম, গুঁড়োদুধ, মাংসের মসলা। এমনই বাজার খুলেছিল যশোরের আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা। ‘মধ্যবিত্তের ঈদবাজার’ নাম দিয়ে এভাবেই মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার এই বাজারের ১ হাজার ২৭০ টাকার পণ্য একজন ক্রেতা কিনেছেন মাত্র ৫৩৫ টাকায়। এর আগে চলতি রমজান মাসে এসব পরিবারের কাছে তিন দিন ১ হাজার ২৮৭ টাকা মূল্যের নয়টি ইফতারসামগ্রী ৫৫০ টাকায় বিক্রি করেছে সংগঠনটি।
যশোর শহরের খড়কি এলাকায় আইডিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থা চত্বরে বসেছিল ব্যতিক্রমী এই ‘মধ্যবিত্তের ঈদবাজার’।
গতকাল বাজার করতে আসা খড়কি রেললাইন এলাকার বৃদ্ধা আমেনা বেগম বলেন, ‘স্বামী নেই। ছেলেরা ঠিকমতো দেখে না। কবে গরুর গোশত খাইছি, মনে নেই। ঈদির দিন গরুর গোশত খাতি পারব। অল্প টাকায় দেচ্চে বইলে কিনতি পারিচি।’
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পলাশ হোসেন এই বাজার থেকে পণ্য কিনে বলেন, ‘ঈদের দিন হয়তো ব্রয়লার কিনতাম ছেলেমেয়ের জন্য। পোলাও কিংবা গরুর মাংসের কথা ভাবনায়ও আসত না। সেখানে এই সংস্থার জন্য আমরা সাধ্যের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতা পেয়েছি। এবার ঈদে আমার ছেলেমেয়েও পোলাও-মাংসের স্বাদ নিতে পারবে।’
‘মানবকল্যাণে আমরা ঠকতে চাই’ সেøাগান নিয়ে শিক্ষার্থীদের বসানো ব্যতিক্রমী এই বাজার দেখতে গতকাল দুপুরে সেখানে যান যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপপরিচালক রফিকুল হাসানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘মাসব্যাপী আইডিয়ার এই ভিন্নধর্মী বাজার রীতিমতো সাড়া ফেলেছে সারা দেশে।’
আইডিয়ার আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক মো. হামিদুল হক শাহীন। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৩ জন শিক্ষার্থী এ সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক।
হামিদুল হক শাহীন বলেন, ‘মধ্যবিত্তের ঈদবাজার কোনো দান নয়, ত্রাণ নয়; বরং মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। একঝাঁক শিক্ষার্থী রমজান মাসব্যাপী মানবকল্যাণে ঠকতে চাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল। এতে যুক্ত হয়েছিলেন বিত্তবান ও মহৎ মানুষেরা।’
