ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এমন আনন্দের দিনে সবাই-ই চায় ভালো কিছু রান্না করতে। অনেকেই গরুর গোশত রান্না করেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য গরুর গোশত কেনা অনেকটাই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কষ্টসাধ্য ব্যাপারকে সহজ করতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে ‘গোশত সমিতি’। এটা ‘গরিবের গোশত সমিতি’ নামেই বেশি পরিচিত। ঈদ ঘিরে সাধারণ মানুষের কাছে এ সমিতি এখন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়ইবাড়ি, কোটামনি, পাইকপাড়া, দীঘিবাড়ি, বাড়ইপাড়া, জালশুকা, কাঞ্চনপুর, মহরাবহ, বড়ইছুটি, ছোট লতিফপুর, বাগানবাড়ী, লতিফপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে এ সমিতি গড়ে উঠেছে। প্রতিটি সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ৭০ জন। সদস্যরা সপ্তাহে ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা দেন। কেউ কেউ পুরো টাকা একত্রে দেন। বছরব্যাপী সামান্য করে টাকা সমিতিতে চাঁদা হিসেবে জমা করে ঈদুল ফিতরের ১ থেকে ৪ দিন আগে সেই টাকায় গরু কিনেন। পরে সেই গরু জবাই করে মাংস ভাগ করে নেন সমিতির সদস্যরা। প্রত্যেকে ৮ থেকে ১০ কেজি করে গোশত পান। গরুর চামড়া বিক্রির টাকায় পরের বছরের জন্য তহবিল গঠন করে সমিতির কার্যক্রম চলে। এতে গরিব পরিবারগুলো বাড়তি আনন্দ পায় এবং তাদের আর্থিক চাপও কমে যায়। গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে গ্রামে গ্রামে এ রকম অনেক সমিতি গড়ে উঠেছে। গরুর গোশতের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দিন দিন সমিতির সংখ্যা বাড়ছে।
বড়ইবাড়ি গ্রামের লেবু মিয়া বলেন, গত ১০-১৫ বছর আগে বড়ইবাড়ি ও কোটামনি গ্রামের আমরা ২০-২৫ জন মিলে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাটিকা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতাম। ওই অনুষ্ঠান থেকেই আমরা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের লোকজন গোশত সমিতির উদ্যোগ নেই। এরপর আমাদের দেখে ওই দুই গ্রামে আরও কয়েকটি সমিতি গড়ে উঠেছে।
কোটামনি গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ঈদে পোলাপানগো কাপড়চোপড় কিনা টেকা শেষ অইয়া যায়। কোনো মতে চিনি-সেমাই কিনি। আবার গোশত কিনুম কেমনে? যখন জানলাম সমিতি হয়েছে, তখন সমিতিতে নাম দিয়েছি।’ পাইকপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়া বলেন, ‘আমাদের সমিতিতে ৭০ জন সদস্য। এ সমিতি হওয়ায় গরিব মানুষের জন্য ভালো হয়েছে। সপ্তাহে ১০০ টাকা চাঁদা দিতে কষ্ট হয় না। ঈদ এলে আর বাড়তি চিন্তা থাকে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটা একটা ভালো উদ্যোগ। বছরব্যাপী টাকা সঞ্চয় করে ঈদের আগে গরু কিনলে সাধারণ মানুষের বেশি বেগ পেতে হয় না। ছেলেমেয়েদের নিয়ে সবাই ঈদে ভালো খাবারও খেতে পারল।’
