পাকিস্তানে যে কারণে গ্রেপ্তার চীনা প্রকৌশলী

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৩, ০৪:১৬ পিএম

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে কর্মরত এক চীনা প্রকৌশলীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তিয়ান নামের ওই প্রকৌশলী চীনের গেজুবা গ্রুপ কোম্পানিতে কাজ করেন। তিনি উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহিস্তান জেলার দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিয়োজিত ছিলেন।

জানা গেছে, সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে হেলিকপ্টারে করে ২১৭ কিলোমিটার দূরে অ্যাবোটাবাদে নিয়ে যাওয়া হয় প্রকৌশলী তিয়ানকে। সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের নির্দেশে কড়া নিরাপত্তায় তাকে নিকটবর্তী হরিপুর টপ সিকিউরিটি প্রিজনে নেওয়া হয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১৫ এপ্রিল) রমজান মাসে নামাজ থেকে দেরিতে ফিরে আসা শ্রমিকদের নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন তিয়ান। তিনি রোজার মধ্যে কাজের ধীরগতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার বেশ কিছু মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ধীরে ধীরে জড়ো হতে শুরু করে জনতা এবং আবাসিক ক্যাম্পে পাথর ছুড়তে শুরু করে, যেখানে চীনা প্রকৌশলী বাস করছিলেন। তার বিরুদ্ধে ব্লাসফেমির অভিযোগ করেন অন্যরা।

পুলিশ জানিয়েছে, তিয়ান দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারী যন্ত্রপাতির দায়িত্বে ছিলেন। তার মন্তব্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তিয়ানকে হেফাজতে নিতে চীনা আবাসিক ক্যাম্পে পৌঁছায় পুলিশ।

শ্রমিকদের বরাত দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিকরা রোজা রেখে কাজ করছিলেন। কাজে ধীরগতিও ছিল না। কিন্তু সেই চীনা প্রকৌশলী কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে উভয়ের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরপর শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ওই চীনা নাগরিক ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ৪০০ স্থানীয় বাসিন্দা বিক্ষোভ করেন।

এ ঘটনার পর শত শত পুরুষ কারাকোরাম হাইওয়ে অবরোধ করতে শুরু করে যা পাকিস্তান ও চীনকে সংযোগকারী একমাত্র সড়ক। বিশৃঙ্খলার মধ্যে, কাউন্সিলের নেতা মাওলানা আজিজ-উর-রহমান জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন। তবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী তিয়ান।

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তিয়ানের পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য কাজ করছে এবং প্রয়োজনে পাকিস্তানে তাদের দূতাবাস ও কনস্যুলার ওই প্রকৌশলীর সুরক্ষা দেবে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান তার কঠোর ধর্মীয় আইনের জন্য পরিচিত। মুসলিমপ্রধান দেশটিতে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননা একটি সংবেদনশীল বিষয়। এমনকি ধর্ম অবমাননার গুজবও জনরোষে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মারাত্মক সহিংসতা উসকে দিতে পারে। পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী ব্লাসফেমির শাস্তি জরিমানা থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, আল জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত