ঈদে খালেদা জিয়ার

শুভেচ্ছা বিনিময় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:৩০ এএম

বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর রাজপথের আন্দোলনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি চলমান আন্দোলন বিজয়ী করতে ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে দলের নীতিনির্ধারকদের নির্দেশনা দিয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণকে কাজ চালিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ঈদের দিন রাত ৮টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির আট সদস্য গুলশানের ‘ফিরোজা’য় খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

জানা গেছে, সাক্ষাৎকালে দলের নীতিনির্ধারকরা প্রথমেই বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, ‘ম্যাডাম আগের চেয়ে অনেকটা ভালো ফিল করছেন। আলাপচারিতায় তিনি ছিলেন স্বাভাবিক।’

জানা গেছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও খালেদা জিয়া নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য খালেদা জিয়াকে জানান, নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে ভোটের আগেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সাড়ে তিনশোর বেশি নেতাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে সরকার এ পরিকল্পনা নিয়েছে। জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাকে এবং তারেককে (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান) তো মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। তাতে কী হয়েছে? এটাকে গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। আন্দোলন আরও বেগবান কীভাবে করা যায়Ñ সেদিকে আপনারা মনোযোগ দিন। আন্দোলনে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি যদি আদায় হয় তখন দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, যেখানে মানুষ নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সেটাই হবে বিএনপির সফলতা।’

সূত্রগুলো বলছে, সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন ঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মনে করেন খালেদা জিয়া। ১০ দফা দাবি আদায়ে যে ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাও এবং আন্দোলন সফল করো। অন্য কোনো কিছু নিয়ে ভাবার দরকার নেই।’

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ফিরোজার সামনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। খালেদা জিয়া দেশবাসীর উদ্দেশে কী বার্তা দিয়েছেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশবাসী যেন ভালো থাকে, তাদের মঙ্গলের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য তারা যেভাবে কাজ করছে সেই কাজ যেন তারা করে সেটাই তিনি বলেছেন।

প্রায় ১০ মাস পর দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কারাগারে যাওয়ার পর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ অনেক সীমিত ছিল। বাসায় আসার পর ঈদের দিনগুলোতে দেখা করার সুযোগ পাই। অনেক দিন পর আলোচনা, সে জন্য সবাই কিছুটা আবেগাপ্লুত ছিলাম। আমরা আশা করি, শিগগিরই ঘন ঘন আমাদের সাক্ষাৎ হবে এবং সামনে উনি বেরিয়ে আসবেন।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘উনি এখনো বেশ অসুস্থ। এখনো উনার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।’

২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে। এরপর থেকে ফিরোজাতেই থাকছেন ৭৭ বয়সী খালেদা জিয়া।

ঈদের দিন সকালে খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম ও ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারসহ নিকট স্বজনরা ফিরোজায় আসেন। ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি ও তার দুই মেয়ে জাহিয়া ও জাফিয়া এবার ফিরোজায় ঈদ করেছেন।

ঈদের নামাজ শেষে গত শনিবার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন মির্জা ফখরুলসহ দলের নেতারা। এ ছাড়াও গত রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। এতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন, জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্রোসটার, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-ভেন্ডসেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত