আরও কড়া অবস্থানে ইউরোপ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:১৮ এএম

শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, কূটনৈতিক স্তরেও ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্ব এবং রাশিয়া ও তার সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত চালু রয়েছে। ফ্রান্সে চীনের রাষ্ট্রদূত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে সৃষ্টি হওয়া অনেক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার নিন্দা না করে বরং নীতিগতভাবে মস্কোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য চীন পশ্চিমা জগতে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ছে। ফ্রান্সে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত মন্তব্যের পর সে দেশের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ডাক বাড়ছে। রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা চাপানো এবং ইউক্রেনকে আরও সামরিক সাহায্য দেওয়ার উদ্যোগও চলছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বলছে, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর যে সব রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং জাতিসংঘে নিজস্ব আসন পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য এবং ইউক্রেনের মতো কিছু দেশ ভবিষ্যতে সেই স্বপ্ন দেখছে। ফলে চীনের রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত মন্তব্যের পর একযোগে চীনের বিরুদ্ধে ইইউ-র কড়া অবস্থান নেওয়ার ডাক জোরালো হচ্ছে। লাটভিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডগার্স রিনকেভিক্স এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। লুক্সেমবুর্গে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে এ বিষয়ে জোরালো বিবৃতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফ্রান্স এবং তিন সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া চীনের কূটনীতিকের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে।

ইইউ ইউক্রেনের জন্য যৌথভাবে দশ লাখ গোলাবারুদ সরবরাহের বিষয়টিও চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সম্পর্কে ইউক্রেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা এক টুইট বার্তায় সেই বিলম্বের সমালোচনা করে লেখেন, এর ফলে ইউক্রেনের মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাশিয়ার ওপর একাদশ দফার নিষেধাজ্ঞার রূপরেখা স্থির করার লক্ষ্যেও আলোচনা করছেন।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর গোষ্ঠী জি-সেভেন যদি সত্যি রাশিয়ায় প্রায় সবরকম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায়, সে ক্ষেত্রে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়া কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার খাদ্যশস্য রপ্তানি সংক্রান্ত বোঝাপড়া বাতিল করবে বলে হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। আগামী ১৮ মে-র পর সেই চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে রাশিয়া ইঙ্গিত করছে। উল্লেখ্য, লাটভিয়া গত বছর রাশিয়ার সার বাজেয়াপ্ত করার পর মস্কো কড়া অবস্থান নিচ্ছে। জি-সেভেন অবশ্য রবিবারই সেই চুক্তি সম্পূর্ণ কার্যকর করার এবং আরও সম্প্রসারণের ডাক দিয়েছে।

রুশ দখলদার বাহিনীর হাত থেকে আরও জমি পুনরুদ্ধার করতে ইউক্রেন বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বেশ কিছুকাল ধরে শোনা যাচ্ছে। সোমবার সকালে রুশ-অধিকৃত ক্রাইমিয়া উপদ্বীপে সেভাস্তোপোল বন্দরে দুটি ড্রোন হামলা বানচাল করা সম্ভব হয়েছে বলে শহরের মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর দাবি করেছেন। ক্রাইমিয়ার ওপর হামলা ইউক্রেনের পাল্টা সামরিক অভিযানের অংশ কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত