ঈদের ছুটিতে মুখর পর্যটনকেন্দ্র

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:৫০ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জাহাজমারা সৈকতে পর্যটক-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল।

ঈদের দিন থেকে কমলগঞ্জের টিলাঘেরা চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জিসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র  দর্শনার্থীদের আগমনে মুখর ছিল।

ঈদের দিন শনিবার, পরদিন রবিবার ও গতকাল সোমবার উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের দেখা মেলে। তাদের মধ্যে সপরিবারে বেড়াতে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল বেশি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঈদের দিন থেকে গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার পর্যটক এসেছেন। এ সময়ের মধ্যে মাধবপুর লেকে প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক এসেছেন। তবে হামহাম জলপ্রপাতে পর্যটকের ভিড় কিছুটা কম ছিল।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আসা ঢাকার ব্যবসায়ী সুমন চৌধুরী, নরসিংদীর রিমা রহমান, সিলেটের কলেজছাত্র সুফিয়ান আহমেদসহ বেশ কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি ঈদেই চেষ্টা করি কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় ঘুরে যেতে। এটি একটি সমৃদ্ধ বন। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্যে ভরা এই বন দেখে মন জুড়িয়ে যায়।’ 

লাউয়াছড়া ইকো টুরিস্ট গাইড অজানা আহমেদ কামরান ও আহাদ মিয়া বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়াসহ কমলগঞ্জের সব পর্যটনকেন্দ্রে বিপুল পর্যটক এসেছেন। ঈদের দিন ও দ্বিতীয় দিন পর্যটকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো ছিল।’

এদিকে, ঈদের ছুটিতে পিকআপ, জিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টমটম ও মোটরসাইকেলে করে ঝুঁকি নিয়ে বেড়াতে দেখা গেছে অনেক তরুণকে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় তাদের আটকে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলে নিরুৎসাহিত করেছেন পুলিশ সদস্যরা।

কমলগঞ্জ থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদ এলেই পর্যটকের ঢল নামে কমলগঞ্জে। তাই তাদের নিরাপদে ঘোরাফেরা ও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আমরা নিরাপত্তা জোরদার রেখেছি।’

বন বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদে পর্যটকদের উপস্থিতি সব সময়ই বেশি হয়ে থাকে। লাউয়াছড়ার গাইডদের বলে দেওয়া হয়েছে পর্যটকেরা যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বন ও পরিবেশের ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে।’

এদিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিমে জাহাজমারা সৈকত ঈদের ছুটিতে পর্যটক-দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর ছিল। এখানে দূর-দূরান্তের চেয়ে নিকটবর্তী এলাকার পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় বছরজুড়ে তেমন পর্যটকের দেখা না পাওয়া গেলেও ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে জাহাজমারা সৈকতে পর্যটক ও দর্শনার্থীর ভিড় বেড়ে যায়। এই ঈদেও পর্যটক-দর্শনার্থীর আগমনে জমজমাট হয়ে উঠেছে জাহাজমারা সৈকত।

সরেজমিন দেখা যায়, অনেকে সমুদ্রে গোসলে ব্যস্ত। সৈকতের বালিয়াড়িতে ফুটবল খেলে, সেলফি তুলে, হই-হুল্লোড় করে অনেকে সময় কাটাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রামের বাড়ি রাঙ্গাবালীর মৌডুবি ইউনিয়নের ভূঁইয়াকান্দা এসেছেন আজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। পরিবার সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি সৈকতে। পরিবার নিয়ে বেশ উপভোগ করছি।’

ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে এসেছেন সাজিদ ও তার সহধর্মিণী রেখা বেগম। তারা বলেন, জাহাজমারা সৈকত অপরূপ। এখানে এলে মুগ্ধ হই। ঈদের ছুটিতে তিন দিনই এই সৈকতে এসেছি। তবে এখানে হোটেল-মোটেল না থাকায় রাত্রি যাপনের কোনো সুযোগ নেই।’ 

মৌডুবি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ রাসেল বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সেখানে যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায় দিচ্ছি। সৈকতে বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। গ্রাম পুলিশ সর্বক্ষণ সৈকতে আছে।’

রাঙ্গাবালী থানার ওসি নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত