পদবির দিক দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার মিল রয়েছে। তিনি রাজনীতিক নন, তবে শিল্প-বাণিজ্যে তিনি প্রখর একজন। ভারতের নামকরা শিল্পগোষ্ঠী আম্বানি গ্রুপের অন্যতম প্রধান অঙ্গ রিলায়েন্সে সামলাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। রিলায়েন্স গ্রুপের সাম্প্রতিক যত ব্যবসায়িক সাফল্য, সেগুলোর নেপথ্যে আছে তার ভূমিকা। মুকেশ আম্বানির বহুদিনের চেনা মানুষও তিনি। বলা হচ্ছে, রিলায়েন্স জিও ও রিটেলের পরিচালক মনোজ মোদির কথা। ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ডান হাত বলা হয় তাকে। দীর্ঘদিনের সঙ্গীও তিনি। রিলায়েন্সের সাফল্যের পেছনে মুকেশ আম্বানিকে সাহায্য করার বিষয়ে তার ভূমিকাই মুখ্য বলে ধারণা করা হয়। বলা হয়ে থাকে, কয়েক দশকে রিলায়েন্স গ্রুপের আকাশছোঁয়া সাফল্যের নেপথ্যে আছে মনোজ মোদির নানা ভাবনা। করোনা মহামারীর সময় ফেসবুকের সঙ্গে জিওর প্রায় ৪৩ হাজার কোটি রুপির একটি চুক্তি হয়। যে সময় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগ হচ্ছিল না, ঠিক সে সময়ই বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগ পায় রিলায়েন্স জিও। এর পেছনেও অন্যতম ছিলেন মনোজ। মুকেশ আম্বানির পর এখন আকাশ আম্বানি ও ইশা আম্বানির সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। জিও থেকে শুরু করে রিলায়েন্স রিটেলের কাজকর্মেও দিচ্ছেন মুনশিয়ানার পরিচয়। মনোজের কাজে খুশি হয়ে বিলাসবহুল এক বাড়ি উপহার দিয়েছেন মুকেশ। বাড়ি না বলে একে মহল বলাই ভালো। দাম ভারতীয় মুদ্রায় দেড় হাজার কোটি রুপির ২২-তলা ভবনটি মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ের নেপিয়ান সি রোডে ভবনটি অবস্থিত। ভবনটির নাম ‘বৃন্দাবন’, যার একটি তলা আট হাজার বর্গফুটের। এক বর্গফুটের মূল্য ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ৭০ হাজার ৬০০ রুপি পর্যন্ত। ভবনটির পরিমাপ হলো এক লাখ সাত হাজার বর্গফুট। ইতালিয়ান আসবাবে সজ্জিত করে মাসখানেক আগে মনোজকে বাড়িটি উপহার দেন আম্বানি। মুকেশের সবচেয়ে ভরসার লোক মনোজ। তিনি মুকেশ আম্বানির সহপাঠীও বটে। মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন তারা। রিয়ালেন্স সাম্রাজ্যের বিশ্বস্ত একজন হিসেবে প্রচারবিমুখ মনোজকে তাই মুকেশের তরফ থেকে সুবিশাল এই উপহার।
×
