রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আইসের বড় চালান জব্দ

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩, ০২:১১ এএম

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ২১ কেজি ক্রিস্টাল মেইথ বা আইসের একটি চালান জব্দ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে পালংখালীর রহমতের বিল এলাকায় ওই আশ্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে এসব আইসসহ তিনজনকে আটক করার কথা জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি জানায়, এখন পর্যন্ত আইসের যতগুলো চালান আটক করা হয়েছে এর মধ্যে এই চালানটিই সবচেয়ে বড়। এসব আইসের আনুমানিক দাম ১০৫ কোটি টাকা।

আটক তিনজন হলো পালংখালীর বালুখালী এলাকার মৃত সিদ্দিক আহমদের ছেলে বালুখালী বাজারের ইজারাদার বজরুক মিয়া (২৮), একই এলাকার আবদুল শুকুরের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (২৩) ও পানখালীর আবুল ম-লের ছেলে ছৈয়দুল বাশার (৪০)।

গতকাল দুপুরে কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের চিত্তবিনোদন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মেহেদী হোসাইন কবির। তবে বিজিবির উপস্থিতিতে সেই সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের নিরপরাধ দাবি করেছেন অভিযুক্তরা।

কর্নেল মেহেদী হোসাইন কবির বলেন, গতকাল ভোরে খবর আসে মিয়ানমার থেকে ক্রিস্টাল মেথের (আইস) চালান আসছে। এ খবরে বালুখালী সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) সদস্যরা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেন। একপর্যায়ে খবর আসে চালান এনে পালংখালী রহমতের বিল এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ২১ কেজি ওজনের ২০ প্যাকেট আইস উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই তিনজনকে আটক করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, মাদক, চোরাচালান রোধে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে বিজিবির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। কাঁটাতারের বেড়া সংস্কারসহ সব বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

বারবার মাদকের চালান জব্দ, চোরাই গরুসহ নানা চোরাই পণ্য সীমান্ত অতিক্রম করে আসায় সীমান্ত অরক্ষিত বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে কর্নেল মেহেদী বলেন, ‘ঢালাওভাবে সীমান্ত অরক্ষিত বলা সমীচীন হবে না। এরই মধ্যে দুই হাজারের বেশি গরু জব্দ করা হয়েছে। এর আগে ৯ কেজি এবং আজ (বুধবার) ২১ কেজি আইস জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। আমরা আমাদের মতো প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

আইসের বিশাল চালানটি কোথায় যাচ্ছিল এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আইসগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মজুদের জন্য আনা হয়েছিল। মজুদ করা গেলে সেখান থেকে খ- খ-ভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত তাদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে বিজিবির সেক্টর কমান্ডার বলেন, তদন্তের স্বার্থে তা এখন বলা যাচ্ছে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে।

এদিকে আটককৃতদের মধ্যে বজরুককে উখিয়ার বালুখালী এলাকার মাদক সম্রাট ও গডফাদার বলে উল্লেখ করা হয়। মাদকসহ ছবি তোলার সময় বজরুক ও তার দুই সহযোগী বলে উল্লেখ করা তিনজনই সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, এসব আইস তাদের নয়। বাসা থেকেই তাদের ধরে এনে আইসের চালানের সঙ্গে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। স্থানীয় হিসেবে তাদের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং বজরুক স্থানীয় বাজার ইজারা নিয়ে ব্যবসা করছেন বলে দাবি করেন। এসব কথা বলায় তাদের দ্রুত সংবাদ সম্মেলন স্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

বজরুক তিন কোটি টাকায় বালুখালীর বাজারের ইজারাদার নিয়েছেন উল্লেখ করে তবে, বিজিবি কর্মকর্তা মেহেদী বলেন, মাদকের টাকা দিয়ে বজরুক বাজার ইজারা নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের পর গতকাল সন্ধ্যায় আটক তিনজনকে জব্দ করা আইসসহ উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল বলে জানায় উখিয়া থানা-পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত