পাঠ্যবইয়ে ‘কভিড যুদ্ধ’ অনলাইনে বিতর্ক

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৩৮ পিএম

চীনে স্কুলের ইতিহাসবিষয়ক পাঠ্যবইয়ে কভিড মহামারী মোকাবিলা করা নিয়ে প্রথম একটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। এ অধ্যায়ে করোনা মহামারী এবং সেটি মোকাবিলার যুদ্ধে চীন সরকারের বিজয় অর্জন তুলে ধরা হয়েছে। অধ্যায়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে অনলাইনে। ভিডিও শেয়ারিং সাইট টিকটকের চীনা সংস্করণ ডাওইনে সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওর বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার বিবিসি জানায়, চীনের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ সম্পর্কিত সরকারি প্রতিষ্ঠান পিপলস এডুকেশন প্রেসে ছাপানো অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে যুক্ত হয়েছে কভিড যুদ্ধ নিয়ে একটি অধ্যায়। সেখানে চীনের কভিড মোকাবিলা নিয়ে যা লেখা হয়েছে, সেসবের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

অধ্যায়টিতে বলা হয়েছে, কমিউনিস্ট সরকার সবসময়ই জনগণের জীবন ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং এ নীতির আওতায় নেওয়া বিভিন্ন সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে সরকার ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করেছে। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারীর শুরুর দিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর জিরো-কভিড নীতি নিয়েছিল চীন। দেশ জুড়ে দিনের পর দিন লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, প্রতিদিন বাধ্যতামূলক কভিড পরীক্ষার মতো কঠোর সব নিয়ম চালু করে চীন সরকার।

দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ এমন কঠোর সব নিয়মকানুন জারি থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে থাকা চীনের জনগণ ২০২২ সালের নভেম্বরের দিকে দেশ জুড়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করলে ডিসেম্বরে জিরো-কভিড নীতির বেশিরভাগ বিধিনিষেধ শিথিল করে চীন সরকার। স্কুলের পাঠ্যবইয়ের লেখনীতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীনের নেতাদের বিজয় ঘোষণার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু অনলাইনে যারা বিতর্কে জড়িয়েছেন, তাদের প্রশ্নÑ পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে বাস্তবতার মিল কতটুকু?

ডাওইনের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হলো সে বিষয়টির কোনো উল্লেখ কি প্রবন্ধে আছে?’ আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘কীভাবে আপনারা এসব ছাইপাঁশ লেখার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন?’ আরেকজন লেখেন, ‘গত তিন বছর আমাদের যে ভয়াবহ যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, এ প্রবন্ধের প্রতিটি অক্ষর দিয়ে সে যন্ত্রণাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত