সুদানে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে গত ১৫ এপ্রিল থেকে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। দেশটিতে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে এ সংঘাতে এরই মধ্যে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সুদানে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের মানুষ আতঙ্কে দিন পার করছেন। দেশটিতে অবস্থান করা প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশিও রয়েছেন চরম আতঙ্কে। খার্তুমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যে পড়ায় আতঙ্ক বেড়েছে আরও।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সুদানের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, সুদান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে তারা।
দেশটিতে অবস্থানকারী সাত শতাধিক বাংলাদেশি ইতিমধ্যে নিবন্ধন করেছেন। আগামী মঙ্গলবার তাদের খার্তুম থেকে নিয়ে আসা হবে। সৌদি আরব হয়ে তারা দেশে ফিরবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে আনতে কাজ করছে। এর মধ্যে সৌদি আরব শুধু নিজেদের দেশের নাগরিকদেরই নয়, বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের নাগরিককেও ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করছে এবং বিপদগ্রস্ত বিদেশি নাগরিকদের সহযোগিতা করছে।
গতকাল শুক্রবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, গত ২৩ এপ্রিল তারা বাংলাদেশিসহ ১০টি দেশের ৯১ জনকে উদ্ধার করেছে। টুইটার পোস্টে বলা হয়, উদ্ধারের পর তাদের সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের টুইটারের দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, রাজতন্ত্রের নেতৃবৃন্দের নির্দেশে চলমান উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সুদান থেকে উদ্ধারকৃতরা শুক্রবার (গতকাল) জেদ্দায় পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, লিবিয়া, কানাডা এবং গিনির ৫২ জন নাগরিক রয়েছেন। তাদের আল জুবাইদ জাহাজে করে নিয়ে আসা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারা জানিয়েছে, সুদান থেকে এ পর্যন্ত সৌদি আরব ২ হাজার ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ১১৯ সৌদির নাগরিক। বাকি ২ হাজার ৬৭৭ জন ৭৮টি ভিন্ন দেশের নাগরিক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব বাংলাদেশিদের উদ্ধারে সহযোগিতা করছে। দেশে ফেরার জন্য এ পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি বাংলাদেশি নাগরিক নিবন্ধন করেছেন। এদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সৌদি আরব সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে।
সুদানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি। নিবন্ধন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা আগামী ২ মে (মঙ্গলবার) প্রথম দলটিকে পাঠানোর চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে হয়তো দুয়েক দিন পেছাতে পারে। কারণ যে জাহাজে করে তাদের পোর্ট সুদান থেকে পোর্ট জেদ্দায় নিয়ে যাওয়া হবে সেই জাহাজের শিডিউল এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। বিষয়টি সৌদি দূতাবাস থেকে চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুদানে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর হামলা ও তাদের মালামাল লুটপাটের খবর ও ভিডিও প্রচার হচ্ছে। তাদের আতঙ্কের খবরও প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তারেক আহমেদ বলেন, এ পরিস্থিতিতে শুধু বাংলাদেশ নয়, সব দেশের নাগরিকরাই আতঙ্কে রয়েছেন। আমরা হটলাইন চালু করেছি। তবে যুদ্ধের কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একটা কারখানায় হামলার ঘটনায় দু-একজন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, সুদানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে সৌদি আরবে নিয়ে আসা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ছয়জনকে নিয়ে আসা হয়েছে। সুদানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। সৌদি আরবে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে।
গত ১৫ এপ্রিল সুদানের সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারি র্যাপিট সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ পর্যন্ত দুই বাহিনীর সশস্ত্র সংঘর্ষে অন্তত ৫০০ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়েছেন চার হাজারের বেশি। এ সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে খার্তুমের বাংলাদেশ দূতাবাস আক্রান্ত হয়। সেখানে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদের বাসায়ও গুলির ঘটনা ঘটে। তিনি বর্তমানে জাজিরা প্রদেশের মাদানি শহরে অবস্থান করছেন। সেখানে থেকেই তিনি নিজ দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে কাজ করছেন।
