ই-সিগারেট ব্যবহার বা ভ্যাপিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার (০২ মে) ভ্যাপিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তামাক কোম্পানিগুলোকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তারা পরবর্তী ‘প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্ত’ করার জন্য কিশোর-কিশোরীদের ইচ্ছাকৃতভাবে প্রলুব্ধ করছে।
এক দশকের মধ্যে দেশের বৃহত্তম ধূমপান বিরোধী সংস্কার হিসেবে আনা বিলে অস্ট্রেলিয়া একক-ব্যবহারের ডিসপোজেবল ভ্যাপগুলোকে নিষিদ্ধ করবে। প্রেসক্রিপশন বহির্ভূত সংস্করণগুলোর আমদানি বন্ধ করবে এবং ই-সিগারেটগুলোতে কতটা নিকোটিন থাকতে পারে তা সীমাবদ্ধ করবে।
অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান বন্ধ করার প্রচেষ্টায় অগ্রগামী এবং ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং অন্যান্য দেশের নীতির অনুসরণে ২০১২ সালে সিগারেটের জন্য ‘প্লেন প্যাকেজিং’ আইন প্রবর্তনকারী প্রথম দেশ হয়ে ওঠে। প্লেন প্যাকেজিং হচ্ছে প্রদর্শিত ব্র্যান্ডের নাম এবং পণ্যের নাম ব্যতীত প্যাকেজিংয়ের লোগো, রঙ, ব্র্যান্ডের চিত্র বা প্রচারমূলক তথ্যের ব্যবহার সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা।
তামাক বিক্রয়ের উপর বেশি কর আরোপের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় সিগারেটের দাম বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে ২৫টি সিগারেটের একটি প্যাকেটের দাম প্রায় ৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ায় বিনোদনমূলক ভ্যাপ (তরল নিকাটিনের বাষ্প) গ্রহণ বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করছে। খবর বাসসের।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার একটি বক্তৃতায় বলেছেন, উচ্চ বিদ্যালয়ে ভ্যাপিং এক নম্বর আচরণগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যাপক আকার ধারণ করছে। বিগ টোবাকো (বড় টোবাকো কোস্পানিগুলো) চকচকে প্যাকেজিংয়ে নিকোটিনের আসক্তিযুক্ত পণ্য বাজারে ছেড়েছে। এটি নতুন প্রজন্মের নিকোটিনে আসক্ত করতে সহায়তা করছে।
বাটলার আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ধূমপায়ীদের ধূমপান ত্যাগ করতে সাহায্য করার জন্য ভ্যাপিং সারা বিশ্বের সরকার এবং সম্প্রদায়ের কাছে একটি থেরাপিউটিক পণ্য হিসাবে বিক্রি করা হয়েছিল। এটি বিনোদনমূলক পণ্য হিসেবে বিক্রি করার অনুমোদন দেওয়া হয়নি, বিশেষ করে আমাদের বাচ্চাদের জন্য একটিও নয়। অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশন ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যান্সার কাউন্সিল উভয়ই সংস্কারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে।
