গরম কিছুটা কমলেও নারায়ণগঞ্জে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেনি। বরং আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। প্রতিদিন শত শত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের (সদর হাসপাতাল) আরএমও ডা. শেখ ফরহাদ হোসেন। ফলে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে ১০০ শয্যার ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে। এখানে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গত কয়েকদিন ধরে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রোগী আসছে। যার মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। প্রচন্ড গরমের কারণে রমজান মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নারায়ণগঞ্জে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। যা এখন পর্যন্ত চলমান।
হাসপাতালের রেজিস্টার সূত্রে জানা গেছে, ১ মে বিকেল পর্যন্ত ৬৬ জন রোগী, ৩০ এপ্রিল ৪১ জন, ২৭ এপ্রিল ৮৯ জন, ২৬ এপ্রিল ১১৪ জন, ২৫ এপ্রিল ১২৫, ২৪ এপ্রিল ১৪২, ২৩ এপ্রিল ১৮৬, ২২ এপ্রিল ৯০, ২১ এপ্রিল ৭৮ জন, ২০ এপ্রিল ৮৩, ১৯ ও ১৮ এপ্রিল ১০৭ জন, ১৭ এপ্রিল ৯২ জন, ১৬ এপ্রিল ৮৭, ১৫ এপ্রিল ১৩৭ জন এবং ১৪ এপ্রিল ৯৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ১০০ থেকে ১২০ জন রোগী ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিচ্ছেন। জরুরি বিভাগে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। সেখান থেকে চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র দিয়ে রোগীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ভর্তি করে পাঠানো হচ্ছে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। মাত্র ১০ বেডের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এত রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা জানান, হঠাৎ করে আবহাওয়ার তারতম্য ও ঈদ উপলক্ষে খাবারের পরিবর্তন হওয়ায় এত মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সবাই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।
আরএমও শেখ ফরহাদ দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, ঈদের আগের দিন থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বেশি আসছে। তাদের চিকিৎসায় জরুরি বিভাগ থেকে সব ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। কোনো কিছুর সংকট নেই।
