গ্রামের চেয়ে ঢাকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি বেশি

আপডেট : ০৪ মে ২০২৩, ০৬:০৮ এএম

আশপাশের গ্রামাঞ্চলের চেয়ে রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। প্রতিনিয়ত ঢাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি নগরজীবনকে চরম হুমকিতে ফেলছে। শহরের প্রায় ৮ শতাংশ শ্রম উৎপাদনশীলতা কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০৫০ সাল নাগাদ গ্রীষ্মকালের ব্যাপ্তি দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নারী ও শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বড় ক্ষতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাড্রিয়েন আর্শট-রকফেলার ফাউন্ডেশনের (আর্শট-রক) গবেষণায় এমন সব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তত্ত্বাবধানে আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে করণীয় কর্মশালা হয়। এতে আর্শট-রকফেলার ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।

আর্শট-রক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ডিএনসিসির একটি সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির সঙ্গে আর্শট-রক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে কাজ করবে। 

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঢাকার তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছেন নগরবাসী। এই শহরের তাপমাত্রা কমিয়ে নগরজীবনকে স্বস্তিদায়ক রাখতে আর্শট-রক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করবে ডিএনসিসি। সেজন্য ইতিমধ্যে ‘চিফ হিট অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটিতে এশিয়ার প্রথম শহর হিসেবে একজন চিফ হিট অফিসার (সিএইচও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে চলমান কর্মসূচি বৃক্ষরোপণের কাজ আরও সম্প্রসারিত করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ডিএনসিসি এলাকায় ২ লাখ গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি সড়ক, ফুটপাত ও সড়ক বিভাজকে কালো রঙের পরিবর্তে সাদা রঙ ব্যবহার করা হবে। ডিএনসিসির সঙ্গে যৌথভাবে কাজে সম্পৃক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক আর্শট-রক ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে, রঙ পরিবর্তন করে তাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা সম্ভব। ফিনিক্স শহরে এই পদ্ধতি প্রয়োগে সুফল মিলেছে। ডিএনসিসিতেও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। 

ডিএনসিসির প্রধান হিট অফিসার (সিএইচও) বুশরা আফরিন বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঢাকা উত্তরকে নিরাপদ করার জন্য নেতৃত্ব দেব। তাপমাত্রা কমাতে শহরব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ঢাকা উত্তরের জনগণের মধ্যে তাপ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুরক্ষা প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে নতুন নতুন কাজ করা হবে।’

আর্শট-রকের পরিচালক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাথি বাঘম্যান ম্যাকলিওড বলেন, ‘তীব্র তাপপ্রবাহ সারা বিশ্বের শহরগুলোতে একটি প্রেশার কুকারের মতো কাজ করছে এবং ঢাকার উত্তরে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় এখানে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই ডিএনসিসিতে সিএইচও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে এই শহরে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বুশরা আফরিনের ভূমিকা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে। আর্শট-রক ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগের অংশীদার হতে পেরে গর্বিত এবং আর্শট-রক ফাউন্ডেশন ডিএনসিসির মানুষের সুরক্ষায় সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রদান করবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় ঢাবি উপউপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল, অ্যাড্রিয়েন আর্শট-রকফেলার ফাউন্ডেশনের হিট অ্যান্ড সিটি ডিপ্লোমেসি বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা মরিসিও রোডাস, শক্তি ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রামের প্রধান সোহানি হক ইলিয়াস, শক্তি ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত