রাশিয়ার সহায়তায় মিসরের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এল-দাবা এনপিপির তৃতীয় ইউনিটে প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে গত বুধবার মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে গত ২৯ মার্চ মিসরের পারমাণবিক ও রেডিওলজিক্যাল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এ ইউনিটের নির্মাণ অনুমোদন প্রদান করে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করছে।
মিসরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. আগমেদ এল-ওয়াকিল অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে বলেন, 'গত বছর এই প্রকল্পে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে সমর্থ হয়েছি, যার মধ্যে আছে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে ফার্স্ট কংক্রিট এবং প্রথম ইউনিটের জন্য কোর ক্যাচার ডেলিভারি গ্রহণ।'
এটমস্ত্রয়এক্সপোর্ট (এএসই) সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. আলেক্সান্ডার কোর্চাগিন জানান যে, ভিভিইআর ১২০০ ডিজাইন ভিত্তিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর ফলে এল-দাবা প্রকল্পের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য মাথায় রেখেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির উৎপাদন সমন্বয় এবং কর্মীদের নিয়ে কোর টিম গঠন সম্ভব হয়েছে।
এল-দাবা মিসরের প্রথম ও একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা কায়রো থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ভূমধ্যসাগর উপকূলে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পে ৩ প্লাস প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর ১২০০ চুল্লিভিত্তিক চারটি ইউনিট থাকবে, প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা হবে ১২০০ মেগাওয়াট।
রাশিয়ার রসাটমের প্রকৌশল শাখা জেনারেল কন্ট্রাকটর হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ছাড়াও রাশিয়া প্রকল্পটির পুরো আয়ুষ্কালজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ, মিসরের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল প্রশিক্ষণ, প্রকল্পটির প্রথম ১০ বছর অপারেশন্স ও সার্ভিসিং সেবা প্রদান করবে। এ ছাড়াও স্পেন্ট ফুয়েল সংরক্ষাণাগার নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় কাস্ক সরবরাহ করবে।
